প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কমলনগরের মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র জনগণের চিকিৎসা সেবার একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্থান হলো কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে, এই সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে সেবা, যা চার লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য।
টেকনিশিয়ানের অভাবে হাসপাতালের কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের দুটি এক্স-রে মেশিন। এর ফলে দরিদ্র রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দ্রুত এক্স-রে সেবা চালুর জন্য টেকনিশিয়ান নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে করইতলা এলাকায় উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়, যাতে প্রান্তিক জনগণের চাহিদা পূরণ করা যায়।
২০০২ সালে হাসপাতালের প্রথম এনালগ এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু, ২০০৭ সালে টেকনিশিয়ান বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।
করোনা মহামারির সময়, ২০২০ সালের শেষের দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল এক্স-রে’ মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। যদিও মেশিনটি যথাযথভাবে স্থাপন করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান না পাওয়ার কারণে নতুন ডিজিটাল ও পুরানো এনালগ—দুটি এক্স-রে মেশিনই বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
হাসপাতালে ভাঙা পা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা দিদার ও আবু সায়েদ জানান, দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর ডাক্তার এক্স-রে করার পরামর্শ দিলেও হাসপাতালের মেশিন বন্ধ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়েছে। যেখানে নামমাত্র খরচে এক্স-রে করানো সম্ভব ছিল, সেখানে বাইরে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়েছে। তারা বলেন, "হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকা সত্ত্বেও আমরা সুবিধা পাচ্ছি না।"
চরপাগলা এলাকা থেকে আসা রোগী সৈয়দ আহাম্মদও একই আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "দুর্ঘটনায় বুকে আঘাত পেয়েছি। হাসপাতালে আসলে এক্স-রে লাগবে বলে চিকিৎসক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। যদি এই হাসপাতালে এক্স-রে সুবিধা থাকতো, তাহলে এমন দুর্ভোগ হতো না।"
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, "এক্স-রে মেশিন আছে। কিন্তু টেকনিশিয়ানের অভাবে এগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন