প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুরে বেলা ২টা বাজতেই শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কের ঈদগাহ মাঠে জড়ো হন একদল মানুষ। কেউ বয়স্ক, কেউ শিশু, কেউবা দিনমজুর কিংবা ভাসমান মানুষ। তাঁদের কারও হাতে নেই পর্যাপ্ত টাকা, কারও আবার দুপুরের খাবার জোগাড় করাটাই কঠিন। তাই বেলা ১টা থেকেই একবেলা খাবারের আশায় অপেক্ষা করেন তাঁরা। এরপর একটি ভ্যান এসে থামলেই শুরু হয় খাবার পরিবেশন। থালায় তুলে দেওয়া হয় গরম ভাত, ডাল, সবজি, ডিম, মাছ কিংবা মাংস। এভাবেই প্রতিদিন অন্তত একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নৃ ফাউন্ডেশন।
শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কে প্রতিদিনের এই মানবিক উদ্যোগের নাম ‘অনাহারীর আহার’। সংগঠনটির দাবি, গত ছয় বছর ধরে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে অসহায় মানুষের জন্য খাবার বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
খাবার খেতে আসা এসব মানুষের মধ্যে রয়েছেন ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষ, ভিক্ষুক, দরিদ্র রিকশাচালক, হকার ও দিনমজুর। তাঁদের অনেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ শেষে এখানে এসে দুপুরের খাবার খান। কেউ কেউ জানান, সামান্য আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে প্রতিদিন দুপুরে পেট ভরে খাবার খাওয়ার সামর্থ্য তাঁদের থাকে না। নৃ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ তাঁদের সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করছে।
খাবার খেতে আসা কয়েকজন বলেন, প্রতিদিন ভালো খাবার জোটে না। এখানে এসে নিয়মিত দুপুরের খাবার খেতে পারি। এমন উদ্যোগ যেন বন্ধ না হয়, সেটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
২০২০ সালে করোনা মহামারির দুঃসময়ে মানুষের অসহায়ত্ব দেখে এই কার্যক্রম শুরু করে নৃ ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আওরঙ্গজেব আকন্দ জানান, করোনা পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্তত একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেই ‘অনাহারীর আহার’ কর্মসূচি চালু করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ১০০ জন অসহায় মানুষের জন্য একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। মাসের ১৫ থেকে ২০ দিন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, বিয়ে কিংবা অন্যান্য উপলক্ষে খাবার বিতরণের দায়িত্ব নেন। বাকি দিনগুলোতে নৃ ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থায়নে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
শুধু খাবার বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয় সংগঠনটির কার্যক্রম। রমজান মাসে ইফতার বিতরণ, মৌসুমি ফল বিতরণ এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানেও কাজ করছে তারা। ‘অসহায়ের সহায়’ নামে আরেকটি কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংগঠনটির ২১ সদস্যের এই তরুণ দল দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সহায়তা সংগ্রহ করা হয়।
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা এই উদ্যোগে প্রতিদিন খাবার পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে অসহায় মানুষের জীবনে। তবে সমাজের দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়া শুধু মানবিক সহায়তা নয়, তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষারও একটি প্রয়াস। নৃ ফাউন্ডেশনের তরুণেরা সেই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলেছেন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে আরও বেশি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন