প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশাল একটি মঞ্চ, এলইডি লাইট, লেজার শো এবং পুরো ট্যুরিং দলের উপস্থিতি- সবকিছু মিলিয়ে একটি বড় কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু যখন মার্কিন সংগীতশিল্পী একন মঞ্চে উঠলেন, তখন তিনি দেখলেন, দর্শক সংখ্যা মাত্র তিনজন! তাদের একজনের বিশেষ অনুরোধে তিনি টানা এক ঘণ্টা একই গান গেয়ে ১০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কোটি টাকারও বেশি, উপার্জন করেছেন।
সম্প্রতি ‘ফ্ল্যাগর্যান্ট’ পডকাস্টে একনের ক্যারিয়ারের এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের একটি ধনী পরিবারের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ঐ পরিবারের এক কন্যা একনের ভক্ত হওয়ায় তার বিশেষ অনুরোধে এই কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য একনকে আনার জন্য বিশেষ একটি ৭৪৭ উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছিল। তার বর্ণনায়, বিমানটিতে শোবার ঘর, গোসলের ব্যবস্থা, গেম রুম ও থিয়েটার ছিল। এত বড় আয়োজন দেখে তার মনে হয়েছিল, অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুরো চিত্র বদলে যায়। বিশাল একটি হল, বড় মঞ্চ, এলইডি লাইট ও লেজার- সবই প্রস্তুত ছিল। কিন্তু দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছিল মাত্র তিনটি চেয়ার। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন পরিবারের তিন সদস্য- মেয়ে, ছেলে ও স্ত্রী।
একন জানান, নির্ধারিত পরিবেশনা শুরু করার পর মাঝপথে ওই তরুণী তাকে থামিয়ে ‘মিস্টার লোনলি’ গানটি গাওয়ার অনুরোধ করেন। গানটি শেষ হওয়ার পর আবারও একই গান শুনতে চান তিনি। এভাবে এক ঘণ্টা ধরে বারবার ‘মিস্টার লোনলি’ গানটিই গাইতে হয় একনকে। বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে একন রসিকতা করে বলেন, তাকে যেন সিডি প্লেয়ারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল। এত বড় আয়োজনের বিপরীতে মাত্র তিনজন শ্রোতার সামনে একই গান বারবার গাওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম অদ্ভুত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
একনের দাবি, তার পারিশ্রমিক ও মঞ্চসজ্জাসহ পুরো আয়োজনের জন্য প্রায় ৫০ লাখ ডলার খরচ হয়েছিল। পরে তিনি মজা করে বলেন, যদি আগে থেকে অনুষ্ঠানের ধরন জানানো হতো, তাহলে আয়োজকদের এত অর্থ খরচ করতে হতো না। তার বদলে অর্ধেক পারিশ্রমিক নিয়েই পরিবারের বসার ঘরে গিয়ে এক ঘণ্টা কারাওকে করতে পারতেন।
২০০৪ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘ট্রাবল’ প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে পরিচিতি পান সেনেগালিজ-আমেরিকান এই শিল্পী। ‘লকড আপ’ ও ‘লোনলি’ গানগুলোর মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং ‘স্ম্যাক দ্যাট’, ‘আই ওয়ানা লাভ ইউ’, ‘ডোন্ট ম্যাটার’, ‘বিউটিফুল’ ও ‘রাইট নাউ (না না না)’ এর মতো একাধিক হিট গান উপহার দিয়েছেন। সংগীতের পাশাপাশি প্রযোজনা ও ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন একন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন