প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রচণ্ড গরমে যখন জনজীবন নাভিশ্বাস, তখন অতিরিক্ত লোডশেডিং সমস্যাটি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় সাধারণ জনগণের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রাম থেকে শহর, সবখানেই মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছে। কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। জানা যায়, শিবচর পৌর অঞ্চলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর লোডশেডিং করা হলেও গ্রামের অঞ্চলের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ।
বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ ফিরে আসে, আবার কখনো টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা এবং বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থালি কাজে ব্যাঘাত ঘটে যাচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে কর্ম ঘণ্টа নষ্ট হচ্ছে। শিবচর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এখানে ১ লাখ ৬ হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে।
এদের বিদ্যুৎ চাহিদা ৩৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট, যেটি অর্ধেকেরও কম। তাই এলাকাভিত্তিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এক এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে পরবর্তী ঘণ্টায় সেই এলাকার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য এলাকায় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
পৌর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, "এভাবে আর কতদিন চলবে?" প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রফিকুল ইসলাম আরও জানান, "আমরা নিয়মিত বিদ্যুতের বিল দিই, কিন্তু প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পাই না। দিনের পর দিন ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।" তিনি কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি করেছেন।
লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরাও। স্থানীয় ভ্যানচালক রফিক বলেন, "রাতে ঠিকমতো ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না। তাই সকালে বের হলেও দুপুরের আগেই ভ্যান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হয়।" তিনি আরও জানান, "আগে আয় হতো ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, এখন ৩০০ টাকাও হয় না। সংসারে বউ-বাচ্চার সাথে খুব কষ্টে আছি।"
এদিন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, লোডশেডিংয়ে শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও নানা বয়সের রোগীরা খুব কষ্টে আছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগী খবির মিয়া বলেন, "হাসপাতালে আসছি সুস্থ হতে, কিন্তু কারেন্ট না থাকায় গরমে মনে হয় দমই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সারাক্ষণ ঘেমে থাকি, চোখে ঘুম আসে না। এই কষ্টে রোগ ভালো হওয়ার বদলে আরো বাড়ছে।"
এ বিষয়ে শিবচর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অভিলাষ চন্দ্র পাল জানিয়েছেন, "শিবচরে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে আমরা পাচ্ছি ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আমরা চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই নির্দিষ্ট সময় পর পর লোডশেডিং দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছি। তবে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন