প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্মল বড়ুয়া মিলন দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক পদত্যাগপত্রে তিনি এ ঘোষণা দেন। পদত্যাগপত্রে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন, কেন্দ্রীয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে একক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, দলীয় অর্থনৈতিক বিষয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা না করার মতো একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নির্মল বড়ুয়া মিলনের অভিযোগ, দুই কংগ্রেসের মধ্যবর্তী সময়ে দলের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে থাকার কথা থাকলেও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কেন্দ্রীয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে একাধিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। একইভাবে কেন্দ্রীয় কমিটি সমগ্রভাবে দলের প্রতিনিধিত্ব ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার কথা থাকলেও একক সিদ্ধান্তে দল পরিচালনার অভিযোগও করেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে দলটির গঠনতন্ত্রের ১৯ ধারার বিভিন্ন উপধারার উল্লেখ করে নির্মল বড়ুয়া মিলন দাবি করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদ দীর্ঘদিন শূন্য রাখার বিষয়টিও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ‘কালের দাবি’ পত্রিকার দায়িত্ব থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন নির্মল বড়ুয়া মিলন। তার দাবি, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পত্রিকার ওয়েবসাইট উন্নয়নের কথা বলে তাকে কোনো কিছু না জানিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ওয়েবসাইট এবং ‘জনগণতন্ত্র’ পত্রিকার ওয়েবসাইটসহ তিনটি ওয়েবসাইটের ইন্টারনেট বিল তিনি দীর্ঘ আট বছর নিজ খরচে বহন করেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ হিসেবে তার পাওনা ৯৬ হাজার টাকা বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়েও পদত্যাগপত্রে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন নির্মল বড়ুয়া মিলন। তার অভিযোগ, এসব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় ও জোটগত সিদ্ধান্তের বাইরে এককভাবে আসন পরিবর্তন, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে উপস্থাপন না করা এবং বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দলীয় কাঠামো অনুসরণ না করার অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পদত্যাগপত্রে উল্লিখিত দাবিগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক এবং জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই অংশ নেওয়া হয়েছে।
নির্মল বড়ুয়া মিলনের ভাষ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর দলটির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তার মনে হয়েছে, দলটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনায় সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির প্রভাব অত্যধিক। তিনি দাবি করেন, এতে মফস্বলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং শ্রমিক শ্রেণির নেতা-কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না।
পদত্যাগপত্রের শেষাংশে নির্মল বড়ুয়া মিলন বলেন, তিনি বৈষম্যের শিকার শ্রমিক শ্রেণি ও মুক্তিকামী মানুষের রাজনীতির পক্ষে থাকবেন। তবে ‘বামপন্থী’ ও ‘বিপ্লবী’ শব্দ ব্যবহার করে দলীয় নেতা-কর্মী ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতির সঙ্গে তিনি আর যুক্ত থাকতে চান না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন