প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক রোগী ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি ছাড়াই চিকিৎসা নিতে পারবেন। গবেষকদের মতে, একটি বিশেষ ধরনের ডিএনএভিত্তিক জিন পরীক্ষা নির্ধারণ করতে সক্ষম যে কোন রোগী কেমোথেরাপি থেকে প্রকৃত উপকার পাবেন এবং কার ক্ষেত্রে এই চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষকে কেমোথেরাপি না দিয়েও সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপিই যথেষ্ট কার্যকর শক্তি রেখেছে, ফলে কেমোথেরাপির নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, কেমোথেরাপির ফলে অনেক রোগীর ক্লান্তি, বমিভাব, চুল ঝরে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস এবং প্রজননসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি এড়ানোর সুযোগ চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই গবেষণার নেতৃত্ব দেয় ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল)। এতে যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের ৪০ বছরের বেশি বয়সী সদ্য শনাক্ত হওয়া ৪ হাজারেরও বেশি স্তন ক্যানসার রোগী অংশ নেন।
গবেষণায় ‘প্রোসিগনা’ নামের একটি জিন পরীক্ষার ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষাটি স্তন ক্যানসারের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত ৫০টি জিনের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে। পরবর্তীতে এটি ভবিষ্যতে রোগটি পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটা, তা নির্ণয় করে। যেসব রোগীর ঝুঁকির স্কোর কম ছিল, তাদের কেমোথেরাপি দেওয়া হয়নি। এই নিম্ন-ঝুঁকির রোগীরাই গবেষণায় অংশ নেওয়া মোট রোগীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।
ফলাফলে দেখা যায়, কেমোথেরাপি ছাড়া চিকিৎসা পাওয়া এই রোগীদের পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে কেমোথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ। দুই দলের ফলাফলের পার্থক্য খুবই সামান্য।
বর্তমানে স্তন ক্যানসারের প্রধান চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ। পরবর্তীতে রোগ পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে অনেক ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের সেইসব রোগীদের ক্ষেত্রে, যাদের ক্যানসার নিকটবর্তী লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে চিকিৎসকদের একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ধারণা ছিল যে স্তন ক্যানসারের সবচেয়ে প্রচলিত ধরনে সব রোগীর জন্য কেমোথেরাপি সমানভাবে উপকারী নাও হতে পারে। নতুন গবেষণাটি সেই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিজ্ঞাপন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন