প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যা তৈরি পোশাক খাতের সাময়িক কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরো কার্যকর করার এবং ডিজিটাল তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত টিএ-এসপিবিএস প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে ‘বেকার শ্রমিক সুরক্ষা কর্মসূচি’ এবং ‘শ্রম তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা’ বিষয়ক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, পোশাকশিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিকে আরো শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে, কারখানা বন্ধ, দুর্ঘটনা বা মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে সাময়িকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত সহায়তা প্রদান করতে একটি কার্যকর ডিজিটাল কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা বলেন, "পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাতের শ্রমিকদের কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে।"
তিনি আরো বলেন, সেন্ট্রাল ফান্ডের আওতায় পরিচালিত উদ্যোগগুলো সংকটে পড়া শ্রমিকদের সহায়তায় ইতিমধ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার, বিজিএমইএ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
বিজিএমইএর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, "কারখানাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।" তিনি বেকারত্ব বা অন্য কোনো সংকটের সময়ে শ্রমিকদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং সময়মতো নিবন্ধনের ওপর গুরুত্ব দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ভ্যালেন্টিনা বলেন, "শ্রমিকদের জন্য একটি শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনী গড়ে তুলতে সরকার, শিল্প মালিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।" তিনি সাময়িক অর্থনৈতিক সংকটে পড়া শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, পোশাক খাতের শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং সেন্ট্রাল ফান্ডের পরিচালক তাহমিনা বেগম কর্মসূচিটির বিভিন্ন সুবিধা এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, কর্মসূচির আওতায় সাময়িকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিমার্জিত রূপ হলো বেকার শ্রমিক সুরক্ষা কর্মসূচি। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল ফান্ডের অধীনে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় কারখানা বন্ধ, দুর্ঘটনা বা মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে সাময়িকভাবে কর্মহীন শ্রমিকদের সরকার থেকে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ তিন মাস নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়।
কর্মশালায় কর্মসূচির জন্য আবেদন, সুবিধাভোগীর যোগ্যতা, নিবন্ধন পদ্ধতি এবং ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক আল আমিন শ্রমিকদের তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ ও নির্ভুল রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "কারখানার বেতন-তালিকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিক না থাকলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।"
জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের উপদেষ্টা মাহবুবুল সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার কার্যক্রম শেষ করেন। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিজিএমইএর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সেকশন ইনচার্জ ও ডেপুটি সেক্রেটারি শায়লা আক্তার নোভা। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, বিজিএমইএ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ পোশাকশিল্পে শ্রমিকবান্ধব, নিরাপদ এবং টেকসই কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন