প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে ‘এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার ফর ওমেন (ইসিডব্লিউ)’ নামের একটি কথিত এনজিও। গ্রাহকেরা ঋণ নিতে এসে অফিসে তালা ঝুলতে দেখে বিপাকে পড়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের গ্রাহক মো. মুস্তাকিম হাওলাদার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে চার-পাঁচজন ব্যক্তি, একজন মহিলাসহ, নিজেদের ইসিডব্লিউ এনজিওর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ঢেউখালী ইউনিয়নের চর কুমারিয়া এলাকার সৌদি প্রবাসী শিহাব বেপারীর তিনতলা ভবনের নিচতলা ভাড়া নেন। এরপর তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সহজ শর্তে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহক সংগ্রহ করতে থাকেন।ঋণ পাওয়ার আগে প্রত্যেক গ্রাহকের কাছে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় হিসেবে জমা নেন তারা। বুধবার (১২ আগস্ট) গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ নিতে এসে গ্রাহকরা অফিসে তালা ঝুলতে দেখে বিস্মিত হন। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে খুঁজে পাননি। সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা সদরপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন। ঢেউখালী ইউনিয়নের দুর্জয় খার ডাঙ্গী গ্রামের গ্রাহক জোসনা বেগম জানিয়েছেন, ‘আমি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। বুধবার আমাকে ৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। সেই টাকা দেওয়ার জন্য আমি ধার করে সঞ্চয়ের টাকা জোগাড় করেছিলাম।’ ভাষাণচর ইউনিয়নের হাওলাদার ডাঙ্গী গ্রামের সাহিনুর বেগম বলেছেন, ‘আমি ১৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। ঋণ দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এখন অফিস বন্ধ।’ ভবনের মালিক শিহাব বেপারীর স্ত্রী বলেন, অফিস ভাড়া দেওয়ার সময় অভিযুক্তদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে তারা জানান, শুক্রবার ঢাকা থেকে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে অফিস উদ্বোধন করবেন। ওই সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অগ্রিম ভাড়ার টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু তার আগেই তারা অফিসে তালা দিয়ে চলে গেছেন। সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেছেন, এই ঘটনার জন্য একজন গ্রাহক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন