প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্তাবলী মেনে চললে ইরানও তা অনুসরণ করবে। তিনি এ কথা বলেন মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথমবার সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটার পর পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এসেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র লারাক দ্বীপে হামলা চালায়, পরে ইরান জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পেজেশকিয়ানের বক্তব্য তুলে ধরে জানায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করে, তাহলে ইরানও সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের অধীনে তার প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলে, তাহলে ইরানও সঙ্গে সঙ্গে একইভাবে প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।’ জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অন্তর্বর্তী চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত থামানোর চেষ্টা হিসেবে চুক্তিটি গৃহীত হয়।
তবে চুক্তিটি দীর্ঘকাল কার্যকর থাকেনি। চুক্তির শর্তাবলী কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে চুক্তিটি কার্যত ভেস্তে যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।
এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকে।
পরবর্তীতে সাময়িকভাবে সংঘাত কমলেও নতুন হামলার কারণে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের হামলার পর ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ‘এর জবাব দেওয়া হবে।’ তবে পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নতুন হামলার অর্থ এই নয় যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হয়েছে।
ইরান পূর্বে বেশ কয়েকবার জানিয়েছে, বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরান একটি শর্ত দিয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে জুনের চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সোমবার কিরগিজস্তানে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাত বন্ধ করার জন্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগও রাখতে চায় তেহরান। তবে একই সঙ্গে ইরান পরিষ্কার করেছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে যেতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকেও আগের চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন