প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শত শত বছর ধরে বাংলার মাটিতে লালনসংগীত চর্চা হয়ে আসছে। কিন্তু এই গানের সুর ও দর্শনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব যার, তিনি হলেন ফরিদা পারভীন। আজ কিংবদন্তি এই শিল্পীকে হারানোর এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছরের এই দিনেই তিনি না ফেরার দেশে চলে যান, যিনি ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত।
ফরিদা পারভীনকে স্মরণ করার জন্য বিভিন্ন আয়োজন করা হচ্ছে প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে। সকাল ৭টায় চ্যানেল আইতে প্রচারিত হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘গান দিয়ে শুরু’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত বংশীবাদক ও ফরিদা পারভীনের জীবনসঙ্গী গাজী আবদুল হাকিম। এছাড়া, বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে তাঁকে নিয়ে একটি বিশেষ সাময়িকী প্রচারিত হবে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন আবদুর রহমান।
বাংলাদেশ বেতারেও ফরিদা পারভীনকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন রয়েছে। দুপুরে সম্প্রচারিত হবে এই অনুষ্ঠান। ফরিদা পারভীনের গান পরিবেশন করবেন নাসরিন আক্তার বিউটি ও সাজিয়া সুলতানা পুতুল। গাজী আবদুল হাকিম বাঁশিতে সঙ্গত করবেন।
ফরিদা পারভীন শুধু গান গাওয়াই নয়, লালনসংগীতের সুর ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘অচিন পাখি’। তাঁর গড়ে তোলা এই সংগীত একাডেমিতেও সন্ধ্যায় স্মরণ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে একাডেমির কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা ফরিদা পারভীনের জীবন, সংগীতচর্চা ও অবদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।
জীবনের শেষ সময়েও ফরিদা পারভীন ‘অচিন পাখি’কে ঘিরে নানা স্বপ্ন দেখতেন। প্রায় ১৭ বছর আগে তিনি জীবনসঙ্গী গাজী আবদুল হাকিমকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন।
গাজী আবদুল হাকিমের মতে, ফরিদা পারভীন চেয়েছিলেন বাংলা লোকগান পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ুক। সুরের সৌন্দর্যে বেড়ে উঠুক প্রজন্মের পর প্রজন্ম। সেই স্বপ্ন নিয়ে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় ফরিদা পারভীনের জন্ম। সংগীতে তাঁর হাতেখড়ি ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে। তিনি নজরুলগীতি ও ধ্রুপদী সংগীতেও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত নজরুলসংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়।
স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় থাকার সময় লালনসংগীতের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তাঁর। ১৯৭৩ সালে মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে ‘সত্য বল সুপথে চল’ গান শেখার মাধ্যমে তাঁর লালনসংগীতের পথচলা শুরু হয়। পরে তিনি খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছ থেকেও তালিম নেন।
১৯৭৬ সালে ‘অচিন পাখি’ শিরোনামে তাঁর প্রথম দীর্ঘবাদ্যযন্ত্রের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এরপর ফরিদা পারভীন থেমে যাননি। অ্যালবাম, চলচ্চিত্র এবং সরাসরি মঞ্চ—জীবনের প্রায় পুরোটা সময় তিনি লালনসংগীতকে ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।
ফরিদা পারভীন লালনের গানকে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি এই সংগীতকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও পরিচিত করে তুলেছিলেন। তাঁর অনন্য গায়কির কারণে শ্রোতাদের কাছে তিনি ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ নামে পরিচিতি পান।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন