ঢাকা শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই ফাল্গুন, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২৬শে শাবান, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ইং ০১ই ফাল্গুন, ১৪৩৩বাং

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৩০ জনসহ মোট ১১৫ জন জামায়াতে যোগদান


চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৩০ জনসহ মোট ১১৫ জন জামায়াতে যোগদান

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দামুড়হুদা উপজেলার নাস্তিপুরে বিএনপির ৩০ জনসহ মোট ১১৫ জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। বিএনপি এবং অন্যান্য দলের সমর্থকদের সমাহার ঘটিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা দর্শনা থানার মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নাস্তিপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত স্থানীয় জামায়াতের নির্বাচনী পথসভায় এ নেতৃবৃন্দ জামায়াতে যোগদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রুহুল আমিন।

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল তৈরি করার সময় বিস্ফোরণে ২ জন নিহত, ৩ জন আহত

তিনি তার বক্তৃতায় জানান, আমরা আমাদের নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছি। ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি এবং আমরা নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব। বাংলাদেশে কোনও বৈষম্য থাকবে না। আজ যারা আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আজ থেকে আমরা সকলেই ভাই ভাই।

অন্যদিকে, জামায়াতের মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন আমির হাফেজ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল কাদের, দর্শনা সাংগঠনিক থানা আমির মাওলানা রেজাউল করিম ও সহকারী সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, দর্শনা পৌর শাখার আমির সাহিকুল আলম অপু, সাজ্জাদ আলী প্রমুখ।

আরও পড়ুন: যশোরে নির্বাচন ও ভালোবাসা দিবস নিয়ে ১২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শীতে খালি পেটে কিশমিশ খেলে যে বদল আসতে পারে শরীরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০৬:২৬ এম


শীতে খালি পেটে কিশমিশ খেলে যে বদল আসতে পারে শরীরে

শীতের সকালে যখন শুষ্ক এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় আপনি নাজেহাল হয়ে পড়েন, তখন দিনের শুরুটা কিশমিশ দিয়েই করতে পারেন। পুষ্টিবিদদের মতে, এই শুকনো ফলটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে অসাধারণ কার্যকর।

কিশমিশকে ‘স্বর্গীয় ফল’ এর সমমানের একটি ফল বলা যেতে পারে, কারণ এটির বিশেষ কিছু জাদুকরী গুণাবলী আছে, যা আপনার জীবনকে পাল্টে দিতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, কালো, সোনালি ও বাদামি রঙের এই চুপসানো ফলটি শক্তিমূলক। এটি সূর্যের তাপে প্রস্তুত করা হয়। এটি রক্তে শর্করার মাত্রার উপর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলে না। কিশমিশ খেলে শরীরের রক্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়, পিত্ত ও বায়ুর সমস্যাকে দূর করে এবং হৃদপিণ্ডের জন্যও এটি উপকারী।

১. ওজন নিয়ন্ত্রণ: প্রাকৃতিক শর্করায় সমৃদ্ধ কিশমিশ শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ না করে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর ফলে পেট দীর্ঘ সময় ভরতে সহায়তা করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

২. রক্তস্বল্পতা দূর: প্রচুর পরিমাণে লৌহ ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ কিশমিশ রক্তস্বল্পতা সমস্যার সমাধান করে। এতে থাকা কপার রক্তের লোহিত কণার মাত্রা বাড়ায়।

৩. হজমে সহায়তা: কিশমিশের আঁশ প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে যখন এটি পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। ভিজানো কিশমিশ হজমের সমস্যাগুলো উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়।

৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: কিশমিশ পটাশিয়ামের ভালো উৎস, যা শরীরের লবণাক্ততার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি অ্যান্টি অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা রক্তনালির জৈব রসায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে, ফলে রক্তচাপ হ্রাস করা সম্ভব।

৫. হাড়ের সুরক্ষা: কিশমিশে প্রচুর বোরন রয়েছে, যা হাড় গঠনের জন্য অপরিহার্য। এটির মধ্যে ক্যালসিয়াম ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টও আছে। প্রতিদিন ভেজা কিশমিশ খাওয়া স্বাস্থ্যকর এবং শক্তিশালী হাড় গঠনে সহায়তা করে।

৬. মুখের দুর্গন্ধ দূর: কিশমিশের অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়ক।

৭. রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি: কিশমিশ ভিটামিন বি ও সি সমৃদ্ধ। এই শুকনো ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। এর প্রদাহনাশক উপাদান জ্বর, সংক্রমণ ও অন্যান্য দুর্বলতা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

৮. শক্তি জোগায়: কিশমিশে থাকা প্রাকৃতিক গ্লুকোজ কর্মশক্তি বৃদ্ধি করে। পরিমিত কিশমিশ খাওয়া দুর্বলতা কমানোর পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৯. অন্ধত্ব ও কোলেস্টেরল দূর: কিশমিশের প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট অন্ধত্ব প্রতিরোধে সহায়তা করে। এর দ্রবণীয় ফাইবার লিভার থেকে কোলেস্টেরল অপসারণ করতে সক্ষম।

১০. অনিদ্রা: কিশমিশে বিদ্যমান প্রচুর আয়রন অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে সহায়ক। তাই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২টি কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন? স্লিপ ডিস্ক প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০৬:৫৪ এম


দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন? স্লিপ ডিস্ক প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনিয়মের জন্য অনেক সময় ‘স্লিপ ডিস্ক’ বা ‘ডিস্ক প্রোল্যান্স’ তৈরি হয়। দিনের পর দিন কোমরের দিকে মেরুদণ্ডের দুই হাড়ের মাঝে ভুলভাবে অধিক চাপ চাপলে একসময় বসে থাকা নরম কুশন হড়কে গিয়ে পিছনের স্নায়ুর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করে। এ কারণে শুরু হয় কারেন্ট লাগার মতো তীব্র ব্যথা, যা ‘অ্যাকিউট ডিস্ক প্রোল্যাপ্স’ হিসেবে পরিচিত।

কখনও নীচু হয়ে কিছু সরাতে গিয়ে বা অজান্তে ব্যায়াম করতে গিয়ে সমস্যায় পড়া সম্ভব। আবার ব্যায়াম থেকে দূরে থাকা এবং ওবেসিটি থেকেও সমস্যা হতে পারে। এই রোগটি ১৫-৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, কিন্তু ৫০-৮০ বছর বয়সী মানুষদের জন্য ‘ক্রনিক ডিস্ক প্রোল্যাাপ্স’ বেশি হয়। অসুখটি প্রথম দিকে হালকা ব্যথার আকারে প্রকাশ পায়। ব্যথার পরিমাণ কম থাকায় অনেকেই তা নিয়ে তেমন গুরুত্ব দেন না, কিন্তু তা ভিতরে ভিতরে জটিল হয়ে যেতে থাকে। এক সময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যখন হাঁটার সময় পায়ে যন্ত্রণা হয় এবং দাঁড়াতে বা বসতে গেলেও সমস্যা হয়।

স্লিপ ডিস্ক মোকাবেলা করতে যা যা করতে হবে: চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের জীবনে কিছু নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য। যেমন,-

► ওজন ও ভুঁড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। onlyকার্ডিও নয়, কোমরের পেশি শক্তিশালী করার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

► হাঁটার এবং বসার সময় কোমর ও শিরদাঁড়া সোজা রাখুন।

► আধশোয়া হয়ে বই পড়া বা টিভি দেখা যতটা কমানো যায়, ততই উপকারী।

► কোমরে ব্যথা অনুভূত হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাক রিল্যাক্সিং আসন করুন।

► দীর্ঘসময় ধরে বসে কাজ করতে হলে কোমরের কাছে সাপোর্ট দেওয়া আসনে সোজা বসুন।

► এক টানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে একটু হাঁটাচলা করে নিন অথবা ব্যাক স্ট্রেচিং করতে পারেন। এতে সমস্যা কমে।

► নিয়মিত সাঁতার কাটলে অনেক উপকার হয়।

► মহিলাদের ৪৫ আর পুরুষদের ৬০ বছর বয়সের পরে ডাক্তার দেখিয়ে ভিটামিন ডি নেওয়া উচিত।

► চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাড় মজবুত করার ওষুধও গ্রহণ করতে হবে।

► প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সূর্য রশ্মিতে থাকতে হবে।

► অতিরিক্ত ধূমপান হাড়কে দুর্বল করে দেয়, তাই অভ্যাস বদলাতে হবে।

► মদ্যপান ত্যাগ করতে পারেন, না পারলে এক থেকে দেড় পেগের বেশি নয়।

হাড়কে শক্তিশালী করতে চিন্তা করুন, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বিশেষত ডিম, কাঁটা সমেত স্যামন, সারডিন এবং চুনো মাছ খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। এর সঙ্গে দুধ ও দুধের তৈরি খাবার, মাশরুম, কড লিভার অয়েল, মাখন, ঘি, সবুজ শাকসবজি, বাদাম, কুমড়ো পাতা, টোফু ও পোস্ত যোগ করুন। এরপরও রোগের আক্রান্ত হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কীভাবে তা মোকাবেলা করবেন তা জানা উচিত।

অ্যাকিউট ডিস্ক প্রোল্যাপ্সে বিশ্রাম, সামান্য ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, বেল্ট, ব্যায়ামের মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যা কমে যায়। যদি তীব্র ব্যথার সঙ্গে পায়ে শক্তি না থাকে, আঙুল নাড়ানো বা পায়ের পাতা উপরে তুলতে কষ্ট হলে এমআরআই স্ক্যান করে অবস্থা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ক্রনিক ডিস্ক প্রোল্যাপ্সে কিছু নিয়ম ও সামান্য ওষুধেই প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ হয়।

অ্যাকিউট ডিস্ক প্রোল্যাপ্সের অপারেশনের সময় ডিস্কের যে অংশ হাড়ের খাঁচার বাইরে বেরিয়ে এসেছে, তা কেটে নার্ভকে মুক্ত করা হয়। এতে বেশি কাটা-ছেঁড়া না করতে হয় এবং কখনও মাইক্রোস্কোপের ঊর্ধ্বে, আবার কখনও ছোট্ট ফুটো করে এন্ডোস্কোপে অপারেশন হয়। ক্রনিক ডিস্ক প্রোল্যাপ্সে বড় ধরনের অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশনের পর সমস্যা কমতে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শীতকাল ইবাদতের বসন্তের সময়কাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০৭:৩৫ এম


শীতকাল ইবাদতের বসন্তের সময়কাল

বাংলাদেশ ষড় ঋতুর একটি দেশ। প্রতি দুই মাস অন্তর ঋতুর পরিবর্তন ঘটে। শীতকাল এই ঋতুগুলির মধ্যে অন্যতম। ফল, ফুল এবং শস্য নিয়ে শীতকাল আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়। শাকসবজি দিয়ে খেত-খামার এবং হাঁট-বাজার সমৃদ্ধ হয়। শীতকাল মুসলমান জীবনের জন্যও নিয়ে আসে ইবাদতের একটি বিশেষ সময়।

তাহাজ্জুদ নামাজের সুযোগ

নবী (সা.) প্রতিদিন তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন এবং সাহাবাদের (রা.)ও তাহাজ্জুদের জন্য উৎসাহিত করতেন। তাহাজ্জুদ নামাজ একজন মুমিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। শীতকালে রাত বড় হয়, যা তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের সুযোগ করে দেয়।

মুমিনদের সকল চাওয়া-পাওয়া এবং ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আল্লাহ তাহাজ্জুদের সময় তাদের ডাকেন। নবীজি (সা.) বলেন, "আছে কি কেউ, যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কেউ আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দিয়ে দেব। কেউ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব!" রাতের দুই তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে ফজর পর্যন্ত আল্লাহ এভাবে বান্দাকে ডাকতে থাকেন। (বুখারি: ৬৩২১)

রোজা রাখার সুযোগ

আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং আত্মশুদ্ধির জন্য নফল ইবাদত অপরিহার্য। আত্মশুদ্ধির জন্য রোজা ইবাদতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে সাধারণত দিন ছোট ও রাত বড় তা রোজা রাখার জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী (সা.) বলেছেন, "সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলসমূহ পেশ করা হয়। আমার পছন্দ, আমার আমল যেন পেশ করা হয় রোজাদার অবস্থায়।" (তিরমিজি, হাদিস ৭৪৭) আবু হুরায়রা (রা.) একদিন তার শিষ্যদের বললেন, "আমি কি তোমাদেরকে সহজ গনীমত সম্পর্কে অবহিত করব না?" তারা বললেন, "অবশ্যই।" তিনি বললেন, "শীতকালে রোজা রাখা।" (সুনানে বায়হাকি ৪/২৯৭)

দান-সদকার সুযোগ

বান্দার বিপদ-আপদ এবং অভাব-অনটন মোকাবেলায় সদকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শীতে শৈত্য প্রবাহের কারণে সমাজের নিম্নশ্রেণীর অনেকেই অসহায় হয়ে পড়ে। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সমস্যা বেড়ে যায় এবং তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। শীতকালেই নেকী অর্জনের সুযোগ হয়ে থাকে। দান-সাদাকাকারীর ব্যক্তি অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পায়। নবীজি (সা.) বলেছেন, "দান-সাদাকাহ কারণে মানুষ ভয়ংকর মৃত্যু থেকে পরিত্রাণ পায় এবং দান-সাদাকাহ দ্বারা রোগ-ব্যাধি ভালো হয়।" (তিরমিযী হাদীস ৬৬৪)

অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ

মু'মিন ব্যক্তির উদ্দেশ্য হল অধিক সওয়াব অর্জন করা এবং সওয়াবের বিনিময়ে পরকালে মুক্তি লাভ। শীতকাল মুমিনের জন্য অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ নিয়ে আসে। হজরত উমর (রা.) বলেছেন, "শীতকাল ইবাদতগুজারের জন্য গনীমত।" (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৯৮৩৫)

বাংলাদেশ ষড় ঋতুর দেশ। প্রতি দু'মাস পর পর ঋতুর পালাবদল ঘটে। শীতকাল ঋতু সমূহের মধ্যে অন্যতম। ফল-ফুল ও শস্য নিয়ে মাসে হাজির হয় শীতকাল। শাক-সবজি দিয়ে সমৃদ্ধ হয় খেত-খামার এবং হাঁট-বাজার। শীতকাল মুমিন জীবনে নিয়ে আসে ইবাদতের বসন্ত।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন নবী (সা.) বলেন, "আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করব না, যার দ্বারা আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন?" তারা বললেন, "হ্যাঁ, অবশ্যই।" তিনি বললেন, "(তা হল-) কষ্ট সত্ত্বেও পূর্ণরূপে ওযু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি হাঁটা এবং এক নামায আদায়ের পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। এটাই রিবাত (সীমান্ত প্রহরা)।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫১)

লেখক: ইমাম, খতিব, ভবানীপুর জামে মসজিদ, ২ নং ওয়ার্ড, গাজীপুর সিটি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রিজে সিদ্দিকের খুলি জ্ঞান ফেরেনি এখনও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০৭:৩৯ এম


ফ্রিজে সিদ্দিকের খুলি জ্ঞান ফেরেনি এখনও

রাজধানীতে ভূমিকম্পের সময় একটি ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েছেন রিকশাচালক আবু সিদ্দিক (৫৫)। তাঁর মাথার খুলির একটি অংশ ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে, গত শুক্রবার রাতে অস্ত্রোপচার শেষে সেই অংশ হাসপাতালের বিশেষভাবে সংরক্ষিত ফ্রিজে রাখা হয়েছে। তিনি এখনও জ্ঞান ফিরে পাননি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) আবু সিদ্দিক জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর খুলির অভ্যন্তরীণ অংশ এবং রক্তনালি ছিঁড়ে গেছে। স্থিতিশীল হতে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগতে পারে। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর উপযুক্ত সময়ে খুলিটি পুনঃস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধুমাত্র পেটের দায়ে রিকশা চালছেন প্রয়াত আবু সিদ্দিকের ছেলে তাওহীদ ইসলাম গতকাল দুপুরে ঢামেকের আইসিইউয়ের সামনে ওষুধ হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে বাবা প্রতিদিনের মতো রিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন। ক্লান্ত হলে বা খেতে সময় পেলে তিনি কাছাকাছি একটি হোটেলে বসতেন। সেদিনও মিরবাগ এলাকার টিনশেড হোটেলে খেতে বসেছিলেন। কে জানত, সেখানেই ঘটবে দুর্ঘটনা।

তাওহীদ জানালেন, হোটেলের পাশেই সাততলা একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। ভূমিকম্পের সময় ভবনের রেলিং ভেঙে তাঁর বাবার মাথায় পড়ে যায়। স্থানীয়রা বলেন, তিনি রক্তে ভিজে পড়ে যান। ১০-১৫ মিনিট পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আবু সিদ্দিকের চার সদস্যের পরিবারে জীবন থমকে গেছে। তিনি রিকশা চালান, ছেলে তাওহীদ ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা আক্তার গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। কাজের জন্য পরিবার নিয়ে তারা ঢাকা থাকে। হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হয়ে গেছে।

ঢামেকের আইসিইউয়ের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা, যারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, পোশাক কারখানায় দু-তিন দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাওহীদ বলেছেন, ভূমিকম্পে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা সরকার বলেছে, কিন্তু তারা এখনও এ সহায়তা পাননি।

বাঁচার সংগ্রামে আবু সিদ্দিক এখনও লড়াই করছেন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর খুলি সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরিবারের আশা যে, অবস্থা উন্নত হলে ভবিষ্যতে সেটি পুনঃস্থাপন করা হবে। ঢাকা মেডিকেলের নিউরো সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ এফ এম মমতাজুল হক মন্তব্য করেন, আবু সিদ্দিকের ঝুঁকি এখনো কাটেনি। তাঁর মাথায় সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই তাঁকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। খুলি ফ্রিজে সংরক্ষিত আছে। যদি সুস্থ হন, দুই থেকে আড়াই মাস পর তা পুনঃস্থাপন করা হবে। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে। ভর্তি হওয়ার পর থেকে তারা সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে শাবান, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৫:১৬
জোহর ১২:১৪
আসর ০৪:১৭
মাগরিব ০৫:৫৩
ইশা ০৭:০৫
সূর্যোদয় : ০৬:৩২ সূর্যাস্ত : ০৫:৫৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%