প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে হুমকি দেওয়া এবং হামলা বন্ধ করে, তাহলে তেহরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই।
রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
রেজাই উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির বিষয়ে ইরানের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, "যদি ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি বা হামলা বন্ধ করে, তাহলে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলা রাখবে।" তিনি আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে হুমকি না দেওয়া এবং হামলা না করার শর্তে ইরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে।"
এছাড়া, রেজাই হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক এলাকা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই নতুন এলাকা নির্ধারণ হতে পারে বলে তিনি জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের রেখা থেকে শুরু হয়ে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এর ফলে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন বিধি-নিষেধ আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে—এটি জানিয়েছে
অক্টোবর মাসে তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই ওপেক প্লাসের ৭ দেশের।
রেজাই সতর্ক করে বলেন, নতুন নির্ধারিত এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, "নতুন এই এলাকায় প্রবেশ করা যেকোনো জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে।" পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনে হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ফলে, যদি এই পথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই অবস্থায়, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার কথা জানিয়েছে তেহরান।
রেজাই আরও দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনী কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা শনাক্ত করেছিল। তবে তিনি জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে এসব স্থাপনার মধ্যে কিছুতে হামলা চালানো হয়নি। এর মধ্যে জর্ডানের টাইটান ঘাঁটি এবং ইরবিলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির উল্লেখ করেন রেজাই। তিনি বলেন, "ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করেছিল। কিন্তু ইচ্ছা করে সেগুলোতে হামলা চালায়নি। এর মধ্যে জর্ডানে তাদের টাইটান ঘাঁটি এবং ইরবিলে তাদের কয়েকটি ঘাঁটি রয়েছে।" রেজাইয়ের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কয়েক সপ্তাহ ধরে সংঘর্ষ কম থাকার পর ওই অঞ্চলে আবারও হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে।
১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রিয়া।
ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেন, সংঘাতের সময় মার্কিন সামরিক অবস্থানে ইরানের হামলা ওয়াশিংটনের সংঘাত মোকাবেলার কৌশলে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রেখেছে। তার মতে, ইরানের সামরিক পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের অবস্থান ও সংঘাত মোকাবেলার পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়েছে। তবে তার এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়নি। সাক্ষাৎকারে লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন রেজাই। বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কোনো যুদ্ধকে শুধু জয় বা পরাজয়ের হিসাব দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়।
রেজাই বলেন, "কোনো যুদ্ধেই একের পর এক জয় বা একের পর এক পরাজয়—এভাবে বিষয়টি দেখা যায় না। যুদ্ধে উত্থান-পতন থাকেই।" তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনীর টানা সামরিক চাপের মধ্যেও পুরো সংঘাতজুড়ে হিজবুল্লাহ সুবিধাজনক অবস্থান ধরে রেখেছে। রেজাই বলেন, "সব সময়ই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল লেবাননের হিজবুল্লাহ।" রেজাইয়ের বক্তব্যে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তেহরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়টি যুক্ত করছে। অন্যদিকে, হরমুজের বাইরে নতুন নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক এলাকা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানাচ্ছে। এই নতুন এলাকায় জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন