প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার শোকাচ্ছন্ন মায়ের শারীরিক অবস্থার খবর নিতে বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং রামিসার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
হাসপাতাল সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে, কন্যাশোকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া রামিসার মা গত ২৩ জুন অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলামের তত্ত্বাবধানের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি মানসিক আঘাতের পাশাপাশি পরিপাকতন্ত্র, স্নায়বিক সমস্যা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। হাসপাতালে ভরতি হওয়ার পর তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যেমন এমআরআই ও আল্ট্রাসনোগ্রাম সম্পন্ন করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, তার মানসিক অবস্থার উন্নয়নে ইতিমধ্যে দুদফা কাউন্সেলিং করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
অধ্যাপক ডা. রফিকূল ইসলামকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রামিসার মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বারবার বলেন, ‘আমি এখনো প্রতিদিন রামিসার ডাক আমার কানে শুনতে পাই।’ মেয়েকে হারানোর এই অসহনীয় যন্ত্রণার আর্তনাদে হাসপাতালে উপস্থিত সবাই ভারী হয়ে ওঠে।
এ সময়ে রামিসার বাবা চিকিৎসকদের উদ্দেশে আবেগঘনভাবে বলেন, ‘আপনারা আমার রামিসার মাকে সুস্থ করে ফিরিয়ে দিন।’ তার এই আকুতি উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চলমান চিকিৎসার ফলে রামিসার মায়ের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এখনও তার বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক জটিলতা রয়ে গেছে।
পরিবারের অন্য কেউ রামিসার ছোট বোনের দেখভাল করার মতো না থাকায় পরিবারের অনুরোধে বুধবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে বাসায় পাঠানো হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময় অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম রামিসার পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং শোকাহত মায়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন