প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনের পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবিতে কার্যনির্বাহী পরিষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার, বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা, সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনাসহ অনেক বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন কয়েকজন সদস্য।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শাহারিয়ার অন্তু, দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন বাবু, কার্যনির্বাহী সদস্য রাজিব আলী রাতুল, রউফ উদ্দিন রাফি এবং মোঃ আজিবার রহমান।
সভায় কার্যনির্বাহী সদস্য রাজিব আলী রাতুল বলেন, প্রেসক্লাবের আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি কেনাকাটাসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আলোচনা করে নেওয়া এবং সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা আবশ্যক। একই সঙ্গে তিনি প্রেসক্লাবকে চাঁদাবাজিমুক্ত রাখার দাবি জানান।
রাজিব আলী রাতুলের অভিযোগ রয়েছে যে, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করে এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সংগঠনের কার্যালয়কে বিভিন্ন সালিস-মীমাংসার কাজে ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন।
প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সাংগঠনিক মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও রাজিব আলী রাতুল অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। তার দাবি, প্রেসক্লাবের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সাধারণ সম্পাদককে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, "আমরা সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। তা না হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"
সদস্যদের মধ্যে একই ধরনের অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শাহারিয়ার অন্তু। তিনি বলেন, গোলাম মোস্তফা মামুন সদস্য পদে না থেকেও সরাসরি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে তার থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শাহারিয়ার অন্তু আরও বলেন, রাজশাহী প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এখানে সাংবাদিকতার পেশাগত মান, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি যোগ্য ও পাঠকপ্রিয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদককে পদত্যাগ করে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন। এতে প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে আস্থা ফিরবে এবং সংগঠনের ঐতিহ্যও রক্ষা পাবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গোলাম মোস্তফা মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পর জানা যায়, তিনি সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন এবং বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কমিটি অবৈধ। বর্তমান কমিটিতে আমি স্বাক্ষর করিনি।
সভাপতি জানান, তিনি বর্তমানে কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন এবং দুই পা ফুলে যাওয়ায় বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রেসক্লাবে নিয়মিত যেতে পারছেন না বলেও জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, রাজশাহী প্রেসক্লাব একটি সংগঠন নয়, রাজশাহীর সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিরোধের পরিবর্তে গঠনতন্ত্র, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সংগঠন পরিচালনার দাবি জানান তারা।
জরুরি সভা থেকে বর্তমান সংকট নিরসনে সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ, আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং সদস্যদের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান সভায় উপস্থিত সদস্যরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন