প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করার পর লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরে তাঁর ফুটবলে অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন ইয়ামাল। স্প্যানিশ তারকা এতদিন শৈশবে মেসির কোলে থাকা ভাইরাল ছবিটি আড়ালে রাখতে চেয়েছিলেন।
ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর লামিনে ইয়ামাল মেসিকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। দুই মাসেরও বেশি সময় পর, স্পেনের ১৯ বছর বয়সী এই তারকা সেই মুহূর্তের অর্থ জানালেন।
ম্যাচ শেষে ইয়ামাল মেসির কাছে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে কিছু কথা বলেন। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মূলত ফুটবলের জন্য মেসির অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাতে গিয়েছিলেন।
ইয়ামাল বলেন, ‘ফুটবলের জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য অনেক ধন্যবাদ।’ তিনি জানান, মেসিকে সবসময়ই সেরা মনে করেন। এমনকি, মেসি বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকা জেতার আগেও তাঁর কাছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিই ছিলেন সেরা।
তিনি আরও জানান, মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার জন্য তৈরি করা হয়নি। মেসিকে দেখে তাঁর ভেতর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল।
দুজনের সেই আলিঙ্গনের ছবি এখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ছবিতে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০০৭ সালের আরেকটি বিখ্যাত ছবি—যেখানে মাত্র কয়েক মাস বয়সী ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছেন তরুণ মেসি। ইউনিসেফের একটি ফটোশুটের অংশ হিসেবে তোলা সেই ছবিটি পরে অনেকের কাছে এআই-নির্মিত মনে হয়েছিল। তবে ছবিটি পুরোপুরি বাস্তব।
বার্সেলোনায় মেসির উত্তরসূরি হিসেবে ইয়ামালের উত্থানের সঙ্গে ছবিটি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে এতদিন ছবিটি প্রকাশ্যে না আসার পেছনে ইয়ামালের নিজস্ব ভূমিকা ছিল। তিনি জানান, বাবাকে ছবিটি প্রকাশ না করতে বলেছিলেন। একবার বাবা ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করলেও ইয়ামাল সেটি সরিয়ে নিতে বলেছিলেন।
ইয়ামাল পরিষ্কার করেছেন, মেসির সঙ্গে তাঁর তুলনাই যেন সব আলোচনার কেন্দ্রে না আসে, সেটি তিনি চাননি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি মেসি হতে চাইনি। আমি লামিনে হতে চেয়েছি।’ নিজের পরিচয়ে জায়গা তৈরি করার পর ছবিটি প্রকাশ করার জন্য বাবাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ছবিটি প্রকাশ্যে আসে। ততদিনে ইয়ামাল নিজেই বিশ্বমানের ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বার্সেলোনায় মেসির ১০ নম্বর জার্সিও তাঁর গায়ে উঠেছে। এখন ইয়ামালও স্বীকার করেন, ছোটবেলায় মেসির সঙ্গে তোলা সেই ছবি এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দুজনের আলিঙ্গনের ছবি পাশাপাশি দেখতে দারুণ লাগে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল মেসি ও ইয়ামালের একই মাঠে মুখোমুখি হওয়ার প্রথম এবং সম্ভবত একমাত্র ঘটনা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বর্তমান প্রজন্মের কিংবদন্তি ও পরবর্তী প্রজন্মের অন্যতম আলোচিত তারকা মুখোমুখি হয়েছিল।
তবে ইয়ামালের মতে, ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলের আগে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ের আগে এনজো ফার্নান্দেস লাল কার্ড দেখায় আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ইয়ামালের ভাষায়, তখন আর্জেন্টিনার গোল করার সুযোগ প্রায় ছিলই না, আর বল নিজেদের দখলে রেখে স্পেনের গোল না করাটা কঠিন হয়ে যায়।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করা মেসির শেষ অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক পরাজয়ও এল স্পেনের কাছে—এবং এমন এক খেলোয়াড়ের বিপক্ষে, যাঁকে অনেকেই ভবিষ্যতে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন।
একদিকে বার্সেলোনার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকার অধ্যায়ের শেষ প্রান্ত, অন্যদিকে একই ক্লাবের নতুন প্রজন্মের তারকার উত্থান। আর সেই দুই সময়কে যেন এক ফ্রেমে বেঁধে দিয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মেসি-ইয়ামালের সেই আলিঙ্গন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন