প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিমার্জিত কারিকুলাম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন মনিটরিং ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির পাশাপাশি তাদের শেখার প্রকৃত পরিমাণ, পাঠদানের মান এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতার ভিত্তিতে বিজ্ঞানসম্মত ও আনন্দময় শিখন নিশ্চিত করার জন্য কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ চলমান রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির (এসএমসি) সদস্য, প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, শিশুদের প্রতি শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যা, বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যবস্থাপনা কমিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ পরিবর্তন করতে সক্ষম।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড ডে মিলের খাবার বিতরণ করেন এবং খাবার সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বিদ্যালয়ের মা সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শ্রেণিকক্ষে লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিদর্শন করে বুক ক্যাপ্টেনদের সঙ্গে কথা বলেন। বিদ্যালয়ের বাগান কার্যক্রম এবং লিটল এগ্রিকালচারিস্ট ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করে শিশুদের পাঠাভ্যাস, পুষ্টি, পরিবেশ সচেতনতা ও ব্যবহারিক শিক্ষার বিকাশে এসব উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্পর্কে ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দেশের ১০০টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছে। আগামী বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, মাধবপুর উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) শতাধিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের চলমান কর্মসূচির সঙ্গে সংস্থাটির কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও পার্থক্য সরেজমিনে পর্যালোচনা করাই এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোথায় কী ধরনের ভালো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, কোন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে এবং কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তা সরাসরি দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কার্যকর ও উপযোগী উদ্যোগগুলো সরকারের নিজস্ব কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
পরে প্রতিমন্ত্রী জগদীশপুর চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিচালিত কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
মাধবপুর উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) অর্থায়নে ম্যাকগভার্ন-ডোল ফুড ফর এডুকেশন কর্মসূচির আওতায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচিতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), রুম টু রিড এবং সিএনআরএস অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম উন্নয়ন প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শিখন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিমার্জিত ও উন্নত কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন কারিকুলামে বিদ্যালয়ভেদে শিখন ঘণ্টার বৈষম্য দূর করা, প্রতিটি বিষয়ের পাঠদান ও শিখন উপকরণকে আরও বিজ্ঞানসম্মত, সহজবোধ্য ও বয়সোপযোগী করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অনুধাবন ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন কেবল বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে এসে প্রকৃত অর্থে শিখছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা, পাঠদানের মান, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম ও জবাবদিহি—সব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিদর্শনকালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড এবং স্কুল ফিডিং বিষয়ক প্রোগ্রাম পলিসি অফিসার এমা লেফু উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন