প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবন (সংসদ সদস্যদের বাসভবন) থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে একসঙ্গে ছিলেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত সংসদ সদস্যদের বাস ভবন ন্যাম ভবনের ৫ নং বিল্ডিং এর তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার তদন্তে পুলিশ, এসআরবি, পিবিআই সিআইডি সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ শুরু করেছে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পূর্বে ঘটনাস্থলটি নিরাপদ রাখা হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, নজরুল ইসলাম দুপুরে তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে খাবার খেয়েছেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা আলাদা আলাদা রুমে চলে যান। পরে ৫টার পরে ছোট স্ত্রী মরিয়মকে ডাকতে গেলে দরজা বন্ধ পান। জানালা দিয়ে দেখেন, মরিয়ম ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। এরপর তিনি থানায় পুলিশকে জানান। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি।
গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর তার কিছু সমর্থক এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালান।
তবে পরদিন কয়েকটি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি নয় বলে দাবি করে। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই সম্প্রতি তাকে বিয়ে করেছেন।
মরিয়ম খাতুনের একটি বায়োডাটা বা জীবনবৃত্তান্ত সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। দাবি করা বিয়ের তারিখের পাঁচ দিন পরের ওই বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ ছিল।
একই বায়োডাটায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘জোর সুপারিশ করছি’ লেখা একটি স্বাক্ষরও দেখা যায়। এ নিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখানো কিংবা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়।
ভিডিও ভাইরালের পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার এবং একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন