প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালু হচ্ছে না। ফলে আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো অলস পড়ে গিয়ে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আইসিইউ সেবা না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের ফরিদপুর কিংবা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগও বাড়াচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার তালতলা এলাকার বাসিন্দা সাহিদা বেগম তার ছয় মাস বয়সী ছেলে ফাহিমকে নিয়ে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হামে আক্রান্ত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ চিকিৎসকরা দিয়েছেন। তবে রাজমিস্ত্রির কাজ করা স্বামী ফরিদ চোকিদারের পক্ষ থেকে অর্থাভাবে রাজধানীতে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না।
একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে হাসপাতালে আসা অনেক মুমূর্ষু রোগীর পরিবারের মধ্যে। অথচ জেলার প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতাল। পাশাপাশি প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে আইসিইউসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। রোগীদের সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালের নভেম্বরে আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেখানে সেবা চালু হয়নি।
গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জীবন রক্ষায় আইসিইউ পরিষেবাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে লাইফ সাপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকলেও হাসপাতালের সপ্তম তলায় অবস্থিত আইসিইউ ইউনিটটি ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এ নিয়ে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পাওয়া যাচ্ছে।
তথ্য অনুসারে, মাদারীপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের মোট ২৬৭ পদের মধ্যে ১০২টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ; যেকোনো মুমূর্ষু রোগীর জন্য আইসিইউ সেবা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু কেন এখনো আইসিইউ চালু করা যাচ্ছে না, সেটিই এখন একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাহিদা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে এত বড় হাসপাতালে আইসিইউ সেবা চালু নেই। আমরা গরিব মানুষ, ঢাকা নিয়ে চিকিৎসা করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকার যেন দ্রুত এই হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা চালু করে, তাহলে আমাদের মতো মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।
সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমার ছেলেকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সেখানে যাওয়া-আসা যেমন কষ্টের, তেমনই চিকিৎসার খরচও অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়েই ছেলেকে এই হাসপাতালে ভর্তি রেখেছি। আমাদের মতো মানুষের জন্য বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া প্রায় অসম্ভব।
নিরাপদ চিকিৎসা চাই, মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, মানুষের জন্য সাততলা আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু সেই মানের চিকিৎসাসেবা নেই। পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই। তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে এই হাসপাতাল নির্মাণের উদ্দেশ্য কী? আর আইসিইউ সেবা কেন চালু হচ্ছে না, সেটি জানতে চাচ্ছে মাদারীপুরবাসী।
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. শরিফুল আবেদীন কমল বলেন, আইসিইউ চালুর জন্য আমরা নিয়মিত চেষ্টা করে যাচ্ছি। স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে দ্রুত আইসিইউ সেবা চালু করা সম্ভব হবে, এমন আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন