প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বামী আসলামের জামিন মঞ্জুর, স্ত্রী নিপার জামিন নামঞ্জুর; ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগেও মামলা
বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় ২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের সাড়ে ৫ শতাংশ জমি বিক্রির বায়না চুক্তি করে টাকা গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ে জমি রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ আসলাম হাওলাদার ও তার স্ত্রী রহিমা আফরোজা নিপার বিরুদ্ধে। একই মামলায় বায়না করা জমিতে নির্মিত বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর, টিনের ঘরের ক্ষতিসাধন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জীবননাশের হুমকির অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বরিশালের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে আসামিদের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক এস এম শরীয়াতুল্লাহ মোঃ আসলাম হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে তার স্ত্রী রহিমা আফরোজা নিপার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, বরিশাল নগরীর দক্ষিণ রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানার সিআর মামলা নং-১৪৬৬/২০২৬ দায়ের করেন। মামলায় আসলাম হাওলাদার ও তার স্ত্রী রহিমা আফরোজা নিপাকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে আসলাম হাওলাদারের মালিকানাধীন রুপাতলী মৌজার ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কেনার বিষয়ে বাদীর সঙ্গে আলোচনা হয়। জমিটির মূল্য ২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়না চুক্তি সম্পাদন করা হয়।
চুক্তির সময় বাদী ৩ লাখ টাকা প্রদান করেন। অবশিষ্ট ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধের পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সাব-কবলা দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, আসামিদের অনুরোধে পরবর্তীতে বায়না চুক্তির মেয়াদ তিন মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়। কিন্তু বর্ধিত সময় শেষ হওয়ার পরও জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি।
এ অবস্থায় বাদী গত ১৭ জুলাই কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ করেন এবং পরবর্তীতে গত ২ আগস্ট আসামিদের লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ৩ আগস্ট আসামিরা ১০ থেকে ১২ জন লোকসহ ওই জমিতে যান। সেখানে বাদীর বায়না করা জমিতে নির্মিত বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর এবং টিনের ঘরের ক্ষতিসাধন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে না বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদী দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৪০৬, ৪২০, ৪৪৮ ও ৫০৬(২) ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আসলাম হাওলাদার বরিশালের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে সিআর মামলা নং-১৩৬৭/২০২৬ ও ১৪৫৬/২০২৬ নম্বরে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন বাদী।
তবে ওই পৃথক মামলাগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং আসলাম হাওলাদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
আইনগতভাবে মামলার অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করবেন আদালত।
মামলার সূত্র: সিআর মামলা নং-১৪৬৬/২০২৬ (কোতোয়ালী), বরিশাল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন