প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তবে, ঋণ বিতরণে যথেষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। পাঁচ মাসের মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে উদ্যোক্তারা মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন। এর মানে হলো, বরাদ্দের মাত্র ৩ শতাংশ বিতরণ হয়েছে। এই অবস্থায় বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে বরাদ্দের একটি বড় অংশ এখনও উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
সম্পূর্ণ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ১৫টি তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, আরও ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিতরণ এবং প্রক্রিয়াধীন অর্থ মিলিয়ে মোট পরিমাণ ১৪ হাজার ৫১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ, ৬২ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের এক-পঞ্চমাংশেরও কম বিতরণ করা হয়েছে।
এই প্যাকেজের অধীনে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি সুদ সরকার বহন করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২৫ লাখ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে। কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পের চলতি মূলধন হিসেবে প্রায় ৯০৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, সৃজনশীল অর্থনীতিতে ৫০০ কোটি, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ২৯৩ কোটি এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ২০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
ঋণ বিতরণে ধীরগতির জন্য ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকাররা পরস্পরের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্ধ কারখানা চালু করতে ঋণ প্রয়োজন হলেও ব্যাংকগুলো সহজে অর্থায়ন করতে আগ্রহী নয়। জামানত এবং পুরোনো ঋণখেলাপির জটিলতায় নতুন ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ কারখানা চালু হলে উৎপাদন ও বিক্রি বাড়িয়ে ধীরে ধীরে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৯ জুলাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ নীতি সহায়তা পাওয়ার জন্য সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে করা পুরনো মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। মামলা তুলে নেওয়ার পর ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যাংকারদের মতে, খেলাপি ঋণের চাপের মধ্যে নতুন ঋণ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা, জামানত এবং কারখানা পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে হচ্ছে। এ কারণে অনুমোদনে সময় লাগছে।
ব্যবসায়ীরা ঋণের শর্ত সহজ করা, দ্রুত আবেদন যাচাই করা এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে এমন কারখানাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, মামলা প্রত্যাহারের আগেই ব্যাংকের লিখিত নীতিগত সম্মতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন