প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি পুরান ঢাকার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, হকার ও যানজট ব্যবস্থাপনা এবং সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ‘আমার দেশ’-এর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আবদুস সালাম ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দাদের সমর্থন চেয়েছেন তার অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে।
আমার দেশ : রাজধানীর অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুভূতি কেমন?
আবদুস সালাম : ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর। এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক স্মৃতি। আমি বৃহত্তর ঢাকার নির্বাচিত ডেপুটি মেয়র ও কাউন্সিলর ছিলাম। সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। এসব অভিজ্ঞতা আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আমার দেশ : আগামী ডিএসসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন?
আবদুস সালাম : অবশ্যই অংশ নেব। এ লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। আমার কাজের অভিজ্ঞতা ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ চাইবে আমি তাদের সঙ্গে থেকে কাজ করি এবং সুখে-দুঃখে পাশে থাকি।
আমার দেশ : ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে আপনার প্রধান পরিকল্পনা কী?
আবদুস সালাম : ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে প্রথমেই প্রয়োজন বিদ্যুৎ, রাজউক, গ্যাস, পুলিশ ও ওয়াসার মতো সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সরাসরি সমন্বয়। সব কাজ সমন্বিতভাবে করতে হবে।
আমার দেশ : এসব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় কীভাবে নিশ্চিত করবেন?
আবদুস সালাম : এ জন্য মেয়রকে প্রয়োজনীয় অথরিটি দিতে হবে, যা সরকার দেবে। সরকারেরও সে পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই সমন্বয়ের উদ্যোগ নিচ্ছেন। তিনি মাসে এক-দুবার আমাদের সবাইকে নিয়ে বসেন। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে কাজ করা সহজ হবে।
আমার দেশ : ঢাকা বিভক্তির কারণে দুই সিটির উন্নয়ন ও সমন্বয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে?
আবদুস সালাম : ঢাকা বিভক্তির পেছনে প্রশাসনিক কোনো কারণ ছিল না, ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। তখন ঢাকার মেয়র ছিলেন বিএনপির সাদেক হোসেন খোকা। নির্বাচন ছাড়া তাকে মেয়র পদ থেকে সরানো সম্ভব হচ্ছিল না। মূলত তাকে সরাতেই ঢাকাকে বিভক্ত করা হয়েছিল।
দুই সিটির মধ্যে কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যত্যয় তো ঘটেই। পুরান বা আদি ঢাকার করের টাকা দিয়েই নতুন ঢাকা তৈরি ও উন্নয়ন হয়েছে। সে ক্ষেত্রে উত্তর সিটিকে করের একটি অংশ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা তা পাচ্ছি না। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উত্তর সিটির প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। দুই সিটির প্রশাসক ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
আমার দেশ : হকার সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?
আবদুস সালাম : আমরা ঢাকার হকার সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমাধান চাই। এ জন্য হকার নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে নির্ধারিত স্থানে ও নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার দেশে প্রথমবারের মতো হকার নীতিমালার খসড়া তৈরি করছে। নতুন এই বিধিমালা ডিএসসিসি এলাকায়ও কার্যকর হবে।
এক এলাকার হকার অন্য এলাকায় বসতে পারবেন না। কোনোভাবেই মূল সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না। প্রত্যেককে আইডি কার্ড, নম্বর ও ট্যাগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাপনা একটি নিয়মের মধ্যে আসবে।
ফুটপাতের কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় হকারদের বসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় একটি নৈশকালীন মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অফিস সময়ের পর সেখানে তারা ব্যবসা করতে পারবেন।
এ ছাড়া হলিডে মার্কেটের ব্যবস্থাপনাও নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় তারা ব্যবসা করছেন। নিবন্ধন শুরু হলে পরবর্তী সময়ে তাদের স্থায়ীভাবে বসার ব্যবস্থা করা হবে। সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন ছাড়া কোনো হকার ঢাকা শহরে বসতে পারবেন না।
আমার দেশ : এর মাধ্যমে কি রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা আছে?
আবদুস সালাম : এ খাত থেকে খুব বেশি রাজস্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করছি না। তবে হকারদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা জরুরি।
আমার দেশ : ধানমন্ডি, নিউমার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কী পরিকল্পনা নিয়েছেন?
আবদুস সালাম : ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিন রোড এলাকায় পানি আটকে থাকে। আগে পানি নিষ্কাশনের পথ ছিল বিডিআর পিলখানার ভেতর দিয়ে। পিলখানার ঘটনার পর সেই পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেছি। তিনি একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারব।
পুরান ঢাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর পথ নেই। পাইপলাইনগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। নতুন পাইপলাইন স্থাপন ছাড়া বিকল্প নেই। একই সমস্যা মালিবাগ, মৌচাক ও শান্তিনগর এলাকায়ও রয়েছে। ফ্লাইওভারের পিলার বসাতে গিয়ে অনেক জায়গায় পানি নিষ্কাশনের পথ নষ্ট করা হয়েছে। সেখানেও নতুন পাইপলাইন স্থাপন ছাড়া উপায় নেই।
ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের পানি শেষ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা কিংবা শীতলক্ষ্যায় ফেলতে হয়। এর বাইরে কোনো পথ নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী অপরিশোধিত ও দূষিত পানি নদীতে ফেলার পক্ষে নন। তাই পানি পরিশোধন করে নদীতে ফেলতে চাই। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই তা বাস্তবায়ন করতে পারব।
আমার দেশ : বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কী পরিবর্তন আনছেন?
আবদুস সালাম : দায়িত্ব নেওয়ার সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এ কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আগে দিনে একবার বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হতো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর এখন তা দুইবার করা হচ্ছে। বর্জ্য যাতে নদী ও সড়কে না যায়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সব ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্ল্যান রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো কীভাবে দূর করা যায়, তা নিয়েও ভাবছি।
আমার দেশ : রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া বাড়ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের কোনো ভূমিকা থাকবে?
আবদুস সালাম : বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা সংস্থা রয়েছে। এ বছর ডিএসসিসির বাজেট প্রণয়নের সময় বিভিন্ন দিক থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর চাপ ছিল। কিন্তু আমি বাড়াইনি। ট্রেড লাইসেন্স ফি বাড়ানোর চাপও ছিল, সেটিও বাড়াইনি।
কারণ, দক্ষিণ সিটির মানুষ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমার চিন্তা আগে তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো। আমার লক্ষ্য করের বোঝা বাড়ানো নয়, করের আওতা বৃদ্ধি। ঢাকা দক্ষিণে মাত্র দুই লাখ ৯৬ হাজার হোল্ডিং থেকে কর আদায় হচ্ছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। এ সিটিতে যে পরিমাণ বাড়ি-ঘর রয়েছে, সে তুলনায় হোল্ডিংয়ের সংখ্যা আরো বেশি হওয়ার কথা।
তাহলে আমরা হোল্ডিংয়ের পরিধি বাড়াতে চাই। পাশাপাশি অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কর দিচ্ছে না। আবার অনেক জায়গা বেদখল করে ভোগ করা হচ্ছে। এসব সম্পত্তি সিটি করপোরেশনের আওতায় এনে করের পরিধি বাড়াতে চাই।
আমার দেশ : ডিএসসিসির ৭২টি মার্কেটে চাঁদাবাজি ও মাফিয়া চক্রের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
আবদুস সালাম : মার্কেটগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। এ জন্য বিভিন্ন মার্কেটের সমিতির নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। কোথাও অবৈধ দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে সেগুলো কীভাবে বৈধতা দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছি।
আমার দেশ : মার্কেট সমিতিগুলোকে ব্যবহার করে মাফিয়া চক্রের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগকে কীভাবে দেখেন?
আবদুস সালাম : অভিযোগটি অনেকটাই সত্য। এ কারণেই আমরা সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসছি। তাদের বলেছি, অবৈধভাবে ব্যবসা না করে বৈধতা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে। বছরের পর বছর ভাড়া না দিয়ে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠান চালানোর সুযোগ নেই। এসব বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এরপরও সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশ : আসন্ন নির্বাচনে আপনি মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচিত হলে প্রবীণ নাগরিক ও তরুণ প্রজন্মের জন্য কী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন?
আবদুস সালাম : অবশ্যই পরিকল্পনা রয়েছে। আদি ঢাকার প্রতি সিনিয়র সিটিজেনসহ অনেকেরই বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। তাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এখানে। মানুষ বিশ্বের যেখানেই থাকুক, জন্মভূমির প্রতি তার আলাদা টান থাকে।
সব দেশেই পুরোনো শহর রয়েছে। সেগুলো যতটা সম্ভব পরিপাটি ও সুন্দর করে সংরক্ষণ করা হয়। আমিও পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাহিত্যগুলোকে ধরে রাখতে চাই। ঐতিহাসিক ও উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো সংরক্ষণ করতে চাই।
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের এসব স্থান সম্পর্কে জানাতে ইতোমধ্যে ডিএসসিসি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। সপ্তাহে অন্তত একদিন স্কুল শিক্ষার্থীদের এসব ঐতিহাসিক এলাকায় ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হবে।
পুরান ঢাকার রাস্তাঘাট সরু। তাই যতটুকু সম্ভব সেগুলো সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। সেখানকার স্ট্রিট লাইট, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য বজায় রেখেই এলাকাটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
আল্লাহ যদি আমাকে সুযোগ দেন এবং জনগণ নির্বাচিত করেন, তাহলে ঢাকাকে মনের মতো সুন্দর করে সাজাতে চাই।
আমার দেশ : ডিএসসিসির নতুন ওয়ার্ডগুলোতে সড়ক, ড্রেনেজ ও বিদ্যুৎ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এসব এলাকার উন্নয়নে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?
আবদুস সালাম : বিষয়টি আমাদের জানা আছে। সিটি করপোরেশনের আওতায় নতুন যেসব ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগেই রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের ব্যবস্থাও নেই।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নে পরিকল্পনা করেছি এবং এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বরাদ্দ চেয়েছি। এসব এলাকা থেকে আমরা খুব বেশি করও পাচ্ছি না। সিটি করপোরেশনের পুরো এলাকাকে এখনো করের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও আলোচনা করেছি।
আমার দেশ : মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আবদুস সালাম : আমার দেশকেও ধন্যবাদ। পত্রিকাটি আরও পাঠকনন্দিত হোক—এই কামনা করি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন