প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত একটি ম্যাচের স্মারক এবার নিলামে উঠতে যাচ্ছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়াগো ম্যারাডোনার দুই ঐতিহাসিক গোল, ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এর সাক্ষী সেই বলটির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১২৫ কোটি টাকা হতে পারে।
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল। এই ম্যাচের সময় ম্যারাডোনা প্রথমে তার হাতে বিতর্কিত গোলটি করেন, যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে। কিছু সময় পর, একক নৈপুণ্যের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তিনি অসাধারণ একটি গোল করেন, যা নির্বাচিত হয় ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে। এই দুটি গোলেই ব্যবহার করা হয়েছিল একই বল।
চার দশকের কাছাকাছি সময় পরেও ঐতিহাসিক সেই বলটি সংরক্ষিত রয়েছে, তবে সময়ের সাথে সাথে এর চামড়া জীর্ণ হয়ে গেছে এবং এর ভেতরের বাতাসও কিছুটা বেরিয়ে গেছে। যদিও এটি মাঠে ব্যবহারের উপযোগী নয়, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান স্মারক হিসেবে এর গুরুত্ব এখন অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিলাম প্রতিষ্ঠান, হেরিটেজ অকশনস আগামী ২১ আগস্ট বলটির নিলাম শুরু করবে। ২৩ আগস্ট বিজয়ী ক্রেতার নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। নিলাম প্রতিষ্ঠানটির আশা, বলটির দাম অন্তত ১ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। তবে নিলামের প্রাথমিক ভিত্তিমূল্য ২৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
হেরিটেজ অকশনসের ক্রীড়া বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান ইমলার মনে করেন, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় বলগুলোর একটি। ঐতিহাসিক ম্যাচের গুরুত্ব, ম্যারাডোনার কিংবদন্তি এবং দুটি অবিস্মরণীয় গোল সব মিলিয়ে বলটির প্রতি সংগ্রাহকদের আগ্রহ ব্যাপক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যারাডোনার স্মারকের নিলামমূল্য অতীতেও বড় অঙ্কে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে ওই ম্যাচে তার পরা আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিটি ৯৩ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছিল। ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার স্টিভ হজ ৩৬ বছর ধরে জার্সিটি নিজের কাছে রেখেছিলেন এবং পরে সেটি নিলামে তোলা হয়।
ঐতিহাসিক বলটির মালিকানার ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। ম্যাচের রেফারি তিউনিসিয়ার আলি বিন নাসের বহু বছর ধরে বলটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করেছিলেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ চলাকালে প্রথমবারের জন্য এটি নিলামে তোলা হলে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতা ২৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারে এটি কিনে নেন। সে সময় এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ফুটবল।
যদিও পরে সেই রেকর্ড ভেঙে যায়। ২০২৪ সালে জাপানি বেসবল তারকা শোহেই ওহতানির ব্যবহৃত একটি বেসবল ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ডলারে বিক্রি হয়।
তবে এখন ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক বলটির সম্ভাব্য মূল্য আগের সব ফুটবল স্মারকের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত ও স্মরণীয় দুই গোলের সাথে সরাসরি জড়িয়ে থাকা এই বলের আসল মূল্য কত হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন