প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬৮ জনে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনায় প্রায় ৮০ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ইউরোপজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে টলেডো প্রদেশের উর্দার কাছে দ্রুতগতির রেলপথে সংঘর্ষটি ঘটে। এই রেলপথটি মাদ্রিদকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সেভিলের সঙ্গে যুক্ত করে।
দুর্ঘটনার ফলে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে প্রায় ৫০ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনাস্থল কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাখে সতর্ক করেছেন যে গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারে।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে জানানো হয়েছিল যে গুরুতর আহত অবস্থায় আরও বহু মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, আহতদের ওই অঞ্চলের কয়েকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইকে জানান, ট্রেন দুটি একই দিকে যাচ্ছিল। এ সময় একটি ট্রেন থেমে থাকা অন্য ট্রেনটির পেছনে ধাক্কা দেয়, যার ফলে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনগুলোর মধ্যে একটি স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে পরিচালিত এভিই দ্রুতগতির ট্রেন, যা মাদ্রিদ থেকে সেভিল যাচ্ছিল। অপর ট্রেনটি বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও পরিচালিত। তবে সংঘর্ষের সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাইনচ্যুত একটি বগির ধ্বংসাবশেষ ঢালু জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের ভিড় দেখা যায়। পাদিয়া জানিয়েছেন, রেনফের ট্রেনটিতে ৩৯৭ জন এবং ইরিওর ট্রেনটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন।
সংবাদমাধ্যম এল পাইসকে উদ্ধৃত করে জরুরি সেবাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইরিওর ট্রেনের দুটি বগি রেললাইনের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়।
টিভিইকে গার্সিয়া বলেন, ‘উদ্ধারকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগি থেকে জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারে মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল উচ্চগতির সংঘর্ষ। তাই আমরা একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছি।’
মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্তিনেস-আলমেইদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য রাজধানী থেকেও জরুরি চিকিৎসা দল ও দমকলকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে।
স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা এডিআইএফ মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া পর্যন্ত দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল স্থগিত করেছে। দুর্ঘটনার তদন্তে ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ তদন্ত দল পাঠিয়েছে দেশটির সিভিল গার্ড।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করার সময় তিনি পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে এবং আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট গার্সিয়া-পাখের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।
সানচেজ বলেন, ‘টলেডোতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার খবরে আমি মর্মাহত। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমার সহমর্মিতা ও সমর্থন রইল।’
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনও দুর্ঘটনার খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ ইউরোপ আপনাদের সঙ্গে শোক পালন করছে।’
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁও স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং উদ্ধারকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
মাত্র নয় মাস আগে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে ৪৫ জন নিহত হন।
আদামুজ শহরের কাছে ওই দুর্ঘটনাটি ছিল ২০১৩ সালের পর স্পেনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা। ২০১৩ সালে দেশটিতে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত হয়েছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন