প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ দুই মাস ৯ দিন যাবৎ খাবার গ্রহণ না করে খুলনার বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর দিঘির আলোচিত কুমির ‘ধলাপাহাড়’ কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে চলে গেছে। গত ১২ আগস্ট ঢাকাস্থ বন অধিদপ্তরের অনুমোদনের মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিরটিকে কক্সবাজারে পাঠানো হয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত ৩ জুন বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর দিঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল এবং খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। এই সময়কালে কুমিরটি কোনো খাবার গ্রহণ করেনি।
নির্মল কুমার পাল বলেছেন, যদিও কুমিরটি খাবার খাচ্ছিল না, তবে এটি পুরোপুরি সুস্থ ছিল। কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. জুলকারনাইন কুমিরটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে ভালো বলে মনোনীত করেছেন। নতুন ব্যবস্থায় আসার পর কিছুদিন জন্য কুমিরের খাবার না খাওয়া সাধারণ ব্যাপার। কারণ, এটি শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী হওয়ায় এর শক্তির চাহিদা তুলনামূলক কম। শরীরে সঞ্চিত চর্বি থেকেও এটি দীর্ঘ সময় জীবিত থাকতে পারে।
এমনকি কিছু কুমির কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত বিনা খাবারেও বেঁচে থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে বনকর্মীরা ধারণা করছেন, দীর্ঘদিনের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অপরিচিত ও বন্দি পরিবেশে চলে আসার কারণে কুমিরটি এমন আচরণ করছিল। সুতরাং কক্সবাজারের নতুন পরিবেশে ধীরে ধীরে এটি স্বাভাবিক আচরণ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘ধলাপাহাড়’ প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী। এর দৈর্ঘ্য ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি।
২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কয়েকটি কুমিরের মধ্যে এটি বর্তমানে একমাত্র জীবিত কুমির। অন্য কুমিরগুলো সময়ের ব্যবধানে মারা গেলেও ‘ধলাপাহাড়’ এখনও বেঁচে আছে।
কক্সবাজারের ডুলহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, খুলনা থেকে নেওয়া বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ:) দীঘির কুমিরটি এখন বেশ ভালো অবস্থায় থাকা। কুমিরটি নেওয়ার পরদিনই একটি জীবিত মুরগি খেয়েছে এবং এরপর আর দেখা হয়নি। পার্কের দীঘিতে সপ্তাহে একদিন খাবার দেওয়া হয়। আশা করা হচ্ছে কুমিরটি সেখানে ভালো থাকবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুন কুমিরটি নতুন করে আলোচনায় আসে। সেদিন খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে আট বছর বয়সী এক শিশু কুমিরের আক্রমণে মারা যায়। এর আগে কুমিরটি একটি কুকুরকেও আক্রমণ করে হত্যা করেছিল। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জননিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ৩ জুন বন বিভাগ কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় নিয়ে আসে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন