প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের আহমেদাবাদে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের কাছ থেকে ৪৯ লাখ রুপি ছাড়িয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতারকদের বিরুদ্ধে। ওই যুবককে বোঝানো হয়েছিল যে, একটি ‘নগ্ন ভিডিওতে’ তার মুখ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।
পরে ওই যুবক পুলিশে অভিযোগ করেন। ইন্ডিয়া টুডে জানায়, এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর একটি অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল আসার পর যুবকটি ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হন। কলটি ধরতেই পর্দায় হঠাৎ এক নগ্ন নারীকে দেখা যায়। ভয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দেন এবং নম্বরটি বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই যুবকের কাছে অন্য একটি নম্বর থেকে আবার হোয়াটসঅ্যাপে কল আসে।
কলকারী তাকে জানায়, তার ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাবে টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যুবকটি আবারও কল কেটে দেন এবং নম্বরটি বন্ধ করে দেন। এ সময় তিনি একটি ভিডিওও পান, যা পরে মুছে ফেলেন।
এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতারকরা আবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এবার অন্য একটি অচেনা নম্বর থেকে কল করা হয়। কলকারী নিজেকে সঞ্জয় অরোরা বলে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, তিনি দিল্লি সাইবার অপরাধ শাখার কর্মকর্তা। ‘নগ্ন ভিডিও’ নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় যুবকটি ভয় পেয়ে যান। কলকারী তাকে জানান, নগ্ন ভিডিও-সংক্রান্ত অপরাধে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এবং আহমেদাবাদ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করতে পারে।
এরপর ওই ব্যক্তি অভিযোগকারীকে কথিত ইউটিউব প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে বলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে একটি ‘নির্ধারিত প্রক্রিয়া’ সম্পন্ন করার কথাও বলা হয়। পরে প্রতারকরা যুবকটিকে আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়, যে নিজেকে ইউটিউবের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি অভিযোগকারীকে বলেন, তার নামে দুটি নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলো মুছে ফেলতে হলে তাকে ৭১ হাজার ২৫০ রুপি দিতে হবে। পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় এবং কথিত ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে যুবকটি টাকা দিতে রাজি হন। এরপর প্রতারকরা বিভিন্ন কারণে তার কাছে আরো টাকা দাবি করতে থাকে।
তারা বারবার ‘নগ্ন ভিডিও’ ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তার ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেয়। যুবকটির দাবি, তাকে পুলিশি ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের ভয়ও দেখানো হয়। বারবার হুমকি ও দাবির কাছে নতি স্বীকার করে তিনি প্রতারকদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ধাপে ধাপে মোট ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি পাঠান।
তবে টাকা পাওয়ার পরও প্রতারকরা তার কাছে আরো টাকা চাইতে থাকে। একপর্যায়ে যুবকটি বুঝতে পারেন যে, তিনি সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর তিনি সাইবার অপরাধ শাখার কাছে যান। তদন্তকারীরা যে ব্যাংক হিসাবগুলোতে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখছেন। এই প্রতারণায় মোট কতজন জড়িত ছিল, সেটিও জানার চেষ্টা করছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন