প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুতে ইউক্রেনের মধ্যে কিছুটা বিপদ সৃষ্টি হয়েছে। নতুন খবরের সূত্রে জানা যাচ্ছে, গ্রাহাম ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের পক্ষে সর্বাধিক সোচ্চার কণ্ঠ ছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গ্রাহম ১০ বার কিয়েভ সফর করেছেন, যার মধ্যে সর্বশেষ সফরটি ছিল গত সপ্তাহে। কিয়েভ থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, শনিবার সন্ধ্যায় তিনি আকস্মিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করেন।
লিন্ডসে গ্রাহামের হঠাৎ মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভি রিডেনকো। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনজুড়ে সিনেটর গ্রাহাম ইউক্রেনের পাশে থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় অবিচল ছিলেন।’ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গ্রাহাম সেখানে অস্ত্র পাঠানো এবং অপর্যাপ্ত সমর্থন দিয়ে গেছেন।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সঙ্গে তিনি বিশেষভাবে জড়িত ছিলেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। গ্রাহাম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক বৈরিতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং তিনি ট্রাম্পের পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা করতে কৌশলগত ভূমিকা পালন করেছিলেন।
গত সপ্তাহে কিয়েভ সফরে গ্রাহাম একটি ড্রোন কারখানা পরিদর্শন করেন এবং ঐ সফরে তিনি ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি আবারও জোর দিয়ে বলেন। কিয়েভ ছাড়ার আগে তিনি বলেছিলেন, ‘এই যুদ্ধ শেষ করার সূত্র আমাদের কাছে রয়েছে। ইউক্রেনকে আরো শক্তিশালী হতে সাহায্য করুন। যারা রাশিয়াকে সমর্থন করছে তাদের জানিয়ে দিন যে, এই সমর্থন অব্যাহত রাখলে তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।’ তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কিয়েভ থেকে ফেরার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর।
২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করার পর গ্রাহামই প্রথম ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র পাঠানোর পক্ষে মত দেন, কারণ সে সময় দেশের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতায় মারাত্মক ঘাটতি ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গ্রাহাম রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং পুতিনকে সন্ত্রাসী ও গুণ্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
গ্রাহাম এমন একটি আইনেরও সমর্থন করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের কোনো অংশে রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দিতে নিষেধ করতো এবং মার্কিন সৈন্যদের দ্বারা ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলোর প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করত। তবে এই প্রস্তাব কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি ‘স্ট্যান্ড উইথ ইউক্রেন অ্যাক্ট’-এরও সহ-প্রণেতা ছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে অস্ত্র ও সরঞ্জামের সরবরাহ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো। এই বিলটি আইনে পরিণত হয়নি।
গ্রাহাম ইউক্রেনের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত বৈঠকের পর প্রথমে জেলেনস্কির পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। কিন্তু খুব শিগ্গিরই তিনি আবার ইউক্রেনের পক্ষাবলম্বন শুরু করেন। তিনি ট্রাম্পকে ইউক্রেনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেন এবং রাশিয়ান তেল আমদানিকারী যে কোনো দেশের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ প্রস্তুত করেন।
লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যু কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন