প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকার ইচ্ছা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। বুধবার, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় লাস ভেগাসে আয়োজিত এক সমাবেশের সময় তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ইরানে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, সেটি ঠিক সেভাবেই। ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, ইরানেও তেমনই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ট্রাম্প জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলস্বরূপ, ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও যদি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় তাহলে সেটা দূর্গম হবে।
সমাবেশের বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনেছেন। সেখানে মাত্র ৪৮ মিনিটের একটি যুদ্ধ হয়েছিল, যেখানে জয়ীর হাতে সব প্রাপ্তি তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সম্পদ দিয়ে যুদ্ধে খরচ উঠে এসেছে। ইরানেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং তাদের ওপর প্রচণ্ড আঘাত হানা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে কারোর প্রাণহানি চান না, সেজন্য কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টিকে তিনি বেশি অগ্রাধিকার দিবেন।
এক পর্যায়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক আক্রমণের জন্য তারা প্রস্তুত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় এবং হামলা না চালানোর আকুল আবেদন জানানো হয়। যদিও পরবর্তীতে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল, ট্রাম্প বলেন, তেহরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং বর্তমানে দুপক্ষের মধ্যে কথাবার্তা চলছে।
তিনি আরো বলেন, ইরানের বর্তমান অবস্থানের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর অনুসরণে তেহরান এখন আমেরিকাকে যথেষ্ট সম্মান করছে। ট্রাম্প বলেন, যা অতীতের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট করতে পারেননি, তিনি তা-ই করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকার লাভ করতে পারবে না এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল অবস্থান।
ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প অ্যাভিগেশন কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন। সেখানে অপরাধী দল ‘ট্রেন দে আরাগূয়া’র বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ বা আইসিই কর্মকর্তাদের পদক্ষেপকে বীরত্বপূর্ণ বলেন। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক ইতিবাচক বলে জানান।
লাস ভেগাসের এই সমাবেশের কয়েক ঘণ্টা আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, ইরানি কর্মকর্তারা সমঝোতার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা পাঠিয়েছেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে তিনি সতর্ক করেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করা এখন তেহরানের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন