প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে ‘অপারেশন ল্যাংড়া’ নামে পুলিশ কর্তৃক শত শত মুসলিমকে গুলি করে পঙ্গু করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এই অভিযানকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হিসেবে আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন, ভারতের উত্তরপ্রদেশে শুরু হওয়া এই বিতর্কিত পদ্ধতি এখন আরও কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাওলানা মিয়াজী অভিযোগ করেন, ভারতে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় পুলিশকে অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ ক্ষমতা প্রদান করে মুসলিম নিধন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।
তিনি মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট’-এর তথ্য উদ্ধৃত করে জানান, প্রায় ৬৫০টি ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা গেছে আহতদের প্রায় ৯৩ শতাংশই মুসলিম, যা এপির স্বাধীন অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক মানবাধিকার আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের বন্দুকযুদ্ধ বা গুলি করে পঙ্গু ও হত্যা করা কখনোই ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না।
বিবৃতিতে রাজ্য পুলিশের তথ্যের বরাতে আরও জানানো হয়েছে, ২০১৭ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে ৩১৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১১০ জনই মুসলিম। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৮৯০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যাদের প্রায় সবার হাঁটুতে বা হাঁটুর নিচে খুব কাছ থেকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করা হয়েছে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের মন্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আদালত পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে পুলিশ কখনোই আদালতের বিকল্প হিসেবে বিচারের দায়িত্ব নিজের হাতে নিতে পারে না। মানবাধিকার সংগঠন 'পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ' এসব এনকাউন্টারের স্বাধীন তদন্ত দাবি করলেও সেই মামলা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এ অবস্থায় অবিলম্বে ভারতকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার জন্য জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতৃত্বের প্রতি জোর দাবি জানান মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন