প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, দক্ষতা উন্নয়ন করা এবং দেশে-বিদেশে কর্মক্ষেত্র তৈরি করা লক্ষ্য নিয়ে মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলামকে যুগোপযোগী ও কর্মবাজারমুখী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মাদরাসা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক কর্মশালার সভায় তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।
মাদরাসা শিক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম হলো, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য কারিকুলামকে কর্মবাজারমুখী করা এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়ন করা। এর মাধ্যমে দেশের ভিতরে ও বিদেশে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার।
তিনি আরো বলেন, সরকারের উন্নয়ন ভাবনার প্রধান অংশজুড়ে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা রয়েছে। আগের সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন ও ভাগ্যের পরিবর্তন করা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ।
সদস্য অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সুযোগের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে জাতি গঠন ও আর্থিক উন্নয়নকে সহায়তা করার লক্ষ্য এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, কর্মশালার আলোচনার ভিত্তিতে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে, যা পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুস হিন্দীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা।
কারিকুলাম যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ‘বটম-আপ অ্যাপ্রোচ’ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করা হয়েছে, ওপরে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে। কর্মশালায় ১০০ জন অধ্যক্ষ, ১০০ জন শিক্ষক এবং ১০০ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে মাদরাসা কারিকুলামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
এছাড়া, কর্মশালায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ এবং ইউজিসির উদ্যোগে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তাদের যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সরকারের বিভিন্ন সুযোগ ও সুবিধা মাদরাসা শিক্ষার্থীরা কিভাবে কাজে লাগাতে পারেন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, স্টার্টআপসহ বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগানো এবং দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার বিষয়গুলোও কর্মশালার আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন