প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সাহিত্য সমালোচকেরা মনে করছেন যে, এ বছর নোবেল সাহিত্য পুরস্কারটি কোনো চীনা বা ক্যারিবীয় নারী লেখকের হাতে উঠতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমা বিশ্বের পুরুষ লেখকদের জন্য এই পুরস্কারটি বেশি দেওয়া হয়ে আসলেও, এবার আরও বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের জন্য কোনো প্রকাশ্য সংক্ষিপ্ত তালিকা নেই। সুইডিশ একাডেমি পুরস্কার প্রদানকারী হিসেবে আলোচনা ও মনোনীত লেখকদের তালিকা ৫০ বছর ধরে গোপন রাখে। এই কারণে, স্টকহোমের সাহিত্যাঙ্গনে পুরস্কার ঘোষণার আগে সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার এই জল্পনার অবসান ঘটবে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা) ১৮ সদস্যের সুইডিশ একাডেমি এবারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।
অ্যান্টিগুয়া-আমেরিকান লেখক জ্যামাইকা কিনকেইড, যিনি ক্যারিবীয় সংস্কৃতি, পরিবার, পরিচয়, ঔপনিবেশিকতা ও বর্ণবৈষম্য নিয়ে লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তাঁর বয়স ৭৭ বছর।
চীনের লেখক কান শুয়েকেও সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর পরীক্ষাধর্মী ও প্রচলিত ধারার বাইরে লেখা অনেকাংশে ফ্রানৎস কাফকার লেখার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
সুইডেনের দৈনিক এক্সপ্রেসেন-এর সংস্কৃতিবিষয়ক সমালোচক ভিক্টর মালম এএফপিকে বলেন, ‘জ্যামাইকা কিনকেইডের এবার পুরস্কার পাওয়ার সময় এসেছে।’
সুইডেনের সবচেয়ে বড় দৈনিক ডাগেনস নিহেটার-এর সংস্কৃতি সম্পাদক বিওর্ন উইমানও বলেন, কিনকেইডের নাম দীর্ঘদিন ধরে নোবেল পুরস্কারের আলোচনায় রয়েছে। গত বছর নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।
নোবেলে নারীরা এখনও পিছিয়ে
কিনকেইডের ১৯৯০ সালের উপন্যাস ‘লুসি’ একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা তরুণীর আত্মজীবনীমূলক গল্প। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আয়া হিসেবে কাজ করতে শুরু করা ওই তরুণীর জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গল্পটি এগিয়েছে।
উইমান বলেন, ‘এটি ঠিক সেই ধরনের বই, যার মাত্র তিন লাইন পড়লেই মনে হয়—হ্যাঁ, এখানে একজন নোবেলজয়ী লেখকের কথা বলা হচ্ছে।’
তবে, কিনকেইডকে পুরস্কার দেওয়া হলে সেটিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবেও কেউ কেউ ব্যাখ্যা করতে পারেন। কারণ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক।
গত বছর ক্রাসনাহোরকাইকে পুরস্কৃত করে সুইডিশ একাডেমি আবারও ইউরোপের পুরুষ লেখকদের দীর্ঘ ঐতিহ্যের পথেই হেঁটেছে। উইমান মনে করেন, এ বছর কমিটিকে সেই ধারা থেকে কিছুটা সরে আসা উচিত।
১৯০১ সালে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার চালুর পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের পুরুষ লেখকদের আধিক্য নিয়ে সুইডিশ একাডেমি সমালোচিত হয়ে আসছে।
এ পর্যন্ত সাহিত্য নোবেল পাওয়া ১২২ জন বিজয়ীর মধ্যে নারী মাত্র ১৮ জন। এশীয় বা মধ্যপ্রাচ্যের ভাষায় লেখা বিশাল সাহিত্যভাণ্ডার থেকেও খুব অল্পসংখ্যক লেখক স্বীকৃতি পেয়েছেন। আফ্রিকার কোনো ভাষায় লেখা সাহিত্য এখনো এই পুরস্কারের প্রতিনিধিত্ব পায়নি।
২০১৮ সালে যৌন নিপীড়নকে কেন্দ্র করে একটি কেলেঙ্কারির পর সুইডিশ একাডেমি বড় ধরনের সংকটে পড়ে। এরপর এর অর্ধেকেরও বেশি সদস্য পরিবর্তন করা হয়।
এরপর থেকে প্রতি দুই বছর পরপর একজন করে নারী লেখক সাহিত্য নোবেল পেয়েছেন। ফলে এবারও কোনো নারী লেখক পুরস্কার পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সুইডিশ একাডেমির বক্তব্য, লেখকের লিঙ্গ, অঞ্চল বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়—একজন লেখকের সাহিত্যকর্মের মানই তাদের একমাত্র বিবেচ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন