প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অধিবেশন শনিবার (২৭ জুন) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর এবং সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। অধিবেশনে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এবারের অধিবেশনে উপস্থাপিত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ ১৫০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক। আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হলো তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। এর জন্য মাল্টি ল্যাংগুয়েজ লানির্ং ইনস্টিটিউটের (এমএলএলআই) মাধ্যমে মানদারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, অ্যারাবিক, ইটালিয়ান, স্প্যানিশ ও ফ্রেন্স ভাষা শেখানো হবে।
এ ছাড়াও দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হচ্ছে। গ্রিন ক্যাম্পাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর আগামী ৫ বছরে দুই কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিলেবাস সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষক-প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা সম্প্রসারণে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কার্যক্রম দ্বারা উপাচার্য বিষয়গুলো তুলে ধরেছিলেন।
সিনেট অধিবেশনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত মূল বাজেট ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা সংশোধিত বাজেট অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করা হয়।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আয় ৬১৭ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। ফলে ঘাটতি বাজেট ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় ৬২৫ কোটি দুই লাখ ৭৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘাটতি রয়েছে ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
সিনেট অধিবেশনের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরবর্তীতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তাদের স্মরণে সব সদস্য এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
অধিবেশনে অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর লুৎফর রহমান ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কলেজের অধ্যক্ষ, প্রায় ৮০ জন সিনেট সদস্যসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং আমন্ত্রিত সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ অনলাইন প্লাটফর্ম জুমে যুক্ত হয়ে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।
অভিভাষণে সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, বিশ্ব আজ এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের যুগ অতিক্রম করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং এমন মানবসম্পদ গড়ে তোলা, যারা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এমন প্রজন্মের হাত ধরে, যারা কেবল তথ্যের ধারক নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টিকারী; যারা চাকরি প্রার্থী নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী; যারা পরিবর্তনের শিকার নয়, বরং পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন