প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশীয় প্রযুক্তি এবং জনগণের বাস্তব চাহিদা কেন্দ্র করে পদ্মা ব্যারাজের মতো বহুমাত্রিক জাতীয় পরিকল্পনার নকশা করা হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা ব্যারাজকে শুধুমাত্র একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি পরিবেশ, মানুষ এবং নদীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বিস্তারিত সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা দরকার।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। নীতিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এই সংলাপটির আয়োজন করেছে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ)।
দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইতিহাস এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, ১৯৭৭ সালের গঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে নদী এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রথম বিপ্লবী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই খাতে স্থবিরতা ছিল। এদিকে ২০২৬ সালে বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আবার নতুন এক যাত্রা শুরু করেছে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় মানুষের চাহিদা এবং পরিবেশগত বাস্তবতা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় প্রকল্পটির নকশায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, উজানের নদীগুলোতে এখনও প্রায় ৯৪২টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো রয়েছে। এই অবস্থায় ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা এবং আন্তর্জাতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ন্যায়বিচার এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করেই সরকারের নীতি-কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে, এটি তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে নাগরিক সমাজ এবং বিশেষজ্ঞদের গঠনমূলক সমালোচনা সবসময় ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়।
আলোচনায় বলা হয়, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন হলে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট অনেকটাই হ্রাস করবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্প থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। ব্যারাজকে কেন্দ্র করে ৭টি আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশগত সংকটের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. তিতুমীর জানান, সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাটের এলাকায় আশঙ্কাজনকভাবে লবণাক্ততা বেড়ে গেছে এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করে সুন্দরবনের ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সরকারের অগ্রাধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে গড়াই, মাথাভাঙা, মধুমতি, চন্দনা এবং ইছামতীর নদী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে যশোরের ভবদহ সহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কৃষি এবং অর্থনীতিতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা এবং রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৪৬ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রকল্পটির অবদান হতে পারে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত।
প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের মধ্যে পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, তবে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় এই গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রকল্পের কারিগরি, পরিবেশগত এবং টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক, পানি বিশেষজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বক্তব্য প্রদান করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন