প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কোরিয়া (ডিপিকে) একটি বড় ধরনের জয়ের পথে রয়েছে। বুথফেরত জরিপের ফলাফলগুলো এর পক্ষে ইঙ্গিত প্রদান করেছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মেয়র ও গভর্নর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অবস্থান এগিয়ে রয়েছে। তবে রাজধানী সিউলের মেয়র নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট গণনা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার তিনটি প্রধান সম্প্রচার মাধ্যম কেবিএস, এমবিসি ও এসবিএসের যৌথ এক্সিট পোল অনুযায়ী, ১৬টি মহানগর এবং প্রাদেশিক প্রধানের নির্বাচনের মধ্যে ১১টি আসনে ডিপিকে প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
প্রধান বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি) শুধুমাত্র একটিতে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে রয়েছে। বুসান, ডেগু, গাংওন এবং উত্তর জেওল্লা প্রদেশের ফলাফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরিস্খিতি দেখা গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজয়ী নির্ধারণ সম্ভব হয়নি।
রাজধানী সিউলের মেয়র নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। এক্সিট পোল অনুযায়ী, ডিপিকে প্রার্থী চং ওন-ও ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী, বর্তমান মেয়র ও পিপিপি প্রার্থী ও সে-হুন পেয়েছেন ৪৬ শতাংশ সমর্থন। যদি এই ফল চূড়ান্ত ফলাফলেও প্রতিফলিত হয়, তাহলে রাজধানীর রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বুসানে ডিপিকে প্রার্থী চুন জে-সু সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, রক্ষণশীলদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ডেগুতেও দুই প্রধান দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। গিয়ংগি প্রদেশে সাবেক বিচারমন্ত্রী চু মি-এ বড় ব্যবধানে এগিয়ে অবস্থান করছেন, যা ক্ষমতাসীন শিবিরের আত্মবিশ্বাসকে বৃদ্ধি করেছে।
এক্সিট পোল প্রকাশের পর ডিপিকের নির্বাচনী কার্যালয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। দলটির নেতারা এটিকে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং প্রশাসনের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবেও ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের দাবি, এটি সরকারের প্রথম বছরের কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের ইতিবাচক মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়।
তবে নির্বাচনের চারপাশে বিতর্কও বাড়ছে। পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান জাং ডং-হিয়ক সিউল মেয়র নির্বাচনকে ‘দূষিত’ আখ্যা দিয়ে ভোট গণনা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন।
তার অভিযোগ, কিছু ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারের ঘাটতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন আগেই অবগত থাকলেও তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এর ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
জাং ডং-হিয়ক আরও বলেন, শুধু সিউল নয়, যেসব এলাকায় একই ধরনের অনিয়ম বা প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে, সেসব স্থানের ভোট গণনাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা উচিত। পাশাপাশি, এ ধরনের ঘটনা অন্য কোথাও ঘটেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্র চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন