প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষা ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে।
জেলার ৫৪ হাজার জেলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। জেলেরা মাছঘাটগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছে, যাতে তারা জাল ও নৌকা সহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে পারে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন দাবি করেছেন, "গত বছরের তুলনায় এবার মাছের উৎপাদন বাড়বে।"
মৎস্য বিভাগ ও জেলেরা জানাচ্ছে, লক্ষ্মীপুরে ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যারা মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ৮ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত পর্যন্ত ২২ দিন নদীতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল, যা জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
এই নিষেধাজ্ঞার ২০ দিনে ২শ’ ২৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। ৭৭ জেলেকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নিয়মিত ১শ’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় সাড়ে ৪ টন ইলিশ ও ২০টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে, যা পরে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৩৭ লাখ মিটার কারেন্ট জালও জব্দ করা হয়েছে।
৮ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছে মৎস্য বিভাগের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স কমিটি।
এদিকে, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ২৯ অক্টোবর মধ্য রাতে। এরপর থেকে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। ফলে মাছ শিকারের জন্য জেলেরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাছঘাটগুলোতে তারা জাল ও নৌকা সহ সব ধরনের কাজ সম্পন্ন করতে ব্যস্ত রয়েছে।
এবার লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এই সময় সব ধরনের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে ১ হাজার ১শ’ ৫৩ মে.টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জেলে এখনও বরাদ্দকৃত চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
মতিরহাট হাট ঘাটের জেলে সফিক উল্যা ও মানা মাঝি বলেছেন, "সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে মাছ শিকারে যাইনি। তবে গত বারের তুলনায় এবার অভিযান খুবই কড়াকড়ি ছিল। প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কারণে নদীতে নামতে সাহস করেনি জেলেরা।" তারা আরও জানান, "যারা আইন না মেনে নদীতে মাছ শিকারে গেছে, তাদেরকে প্রশাসনের হাতে আটক হতে হয়েছে।"
এদিকে, মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের আবুল কালাম ও তোফায়েল আহমদ জানাচ্ছেন, "প্রতিবছর নদীতে অভিযান চলে। এবারের অভিযান সফল হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে ২৯ অক্টোবর মধ্য রাতে। এরপর থেকে আবারও পুরোদমে নদীতে মাছ ধরা শুরু হবে।"
মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের আড়ৎদার মিন্টু জানিয়েছেন, "২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। তাই ঘাটে আড়ৎতের সব ঠিকঠাক করে নিচ্ছি। আশা করি বন্ধের পর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।"
মজুচৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. আবদুর রহমান বলেছেন, "দিনরাত নদীতে অভিযান চালিয়েছি। অনেক সময় বিভিন্ন বাধা সম্মুখীন হলেও অভিযান থেকে সরে যায়নি।" তিনি জানান, "এবার অভিযান পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছে।"
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন দাবি করেছেন, "গত দুই বছর মাছের উৎপাদন কম ছিল। তবে এবার মাছের উৎপাদন আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে।" ২২ দিনের অভিযানে দেড়শ জেলেকে জরিমানা ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার মে.টন, যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার মে.টন বেশি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন