প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুরে প্লাস্টিকের দাপট সত্ত্বেও বাঁশ শিল্প টিকে আছে। বিশেষ করে শেরপুর সদর, ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী, নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলাসহ গোটা গারো পাহাড় অঞ্চলে আধুনিকতার ছোঁয়ার কারণে প্লাস্টিকের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বাঁশ শিল্প এখনও জীবিত রয়েছে।
বর্তমানে নির্বিচারে বাঁশ কাটা এবং পরিচর্যার অভাবে বাঁশঝাড় ক্রমশই কমে যাচ্ছে। প্রকৃতির দুর্যোগ প্রতিরোধক এবং পরিবেশবান্ধব বাঁশঝাড় উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এই কারণেই গ্রামের হাটবাজারগুলোতে বাঁশের তৈরি শিল্পের জমজমাট উপস্থিতি এখনও দেখা যায়।
এই শিল্পের সাথে যুক্ত পরিবারগুলো বর্তমানে এই কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বর্ষা ও ধান কাটা মাড়াইয়ের সময় এই শিল্পের বাজারে ধস দেখা দেয়। আবার বাঁশের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক কুটির শিল্পী তাদের পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল অনেকেই বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ীসহ শেরপুর জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখনো বিভিন্ন ধরনের বাঁশের তৈরি কুলা, চালুন, ডালা, টুপরি, ডোল, ধানের বেড়, ঝাঁটা হোঁচা, মাছ ধরার চাঁই, খলই, পলো এবং বিভিন্ন শৌখিন খেলনা হস্তশিল্প বিক্রি হচ্ছে।
তারা জানান, বর্ষা বোরো ও আমন মৌসুমে ধান ঘরে তোলার সময় হওয়ায় এর চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে বাজারে বিক্রি বাড়ে। বাঁশের শিল্পের সাথে যুক্ত ঝিনাইগাতী উপজেলার লয়খা গ্রামের কয়েকজন বাঁশ শিল্পী বলেন, "আগে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র বাড়িতে তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে অনেক টাকা উপার্জন হতো। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিকের দাপটে এগুলো খুব বেশি বিক্রি হয় না।"
তারা আরও জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশের পরিবর্তে প্লাস্টিকের তৈরি ডালা, কুলা, চালুন, ডোল, বেড়, ধান ও চাল রাখার জন্য প্লাস্টিকের ড্রাম বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে গ্রামের মানুষের ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি ধানের গোলা, ডোল, কুলা, চালুন, মাছের খলই, চাঁই, পলো, বাঁশের তৈরি হাতপাখা বা বিছুন ইত্যাদির জায়গা দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক পণ্য। তারা বলেন, "আগে সবাই দিন-রাত পরিশ্রম করে কাজ করতাম কিন্তু এখন লাভ না হওয়ায় কোনো রকমে বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছি।"
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমীন দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, "বর্তমানে প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য সস্তায় পাওয়া যাওয়ায় বিভিন্ন জিনিসপত্র এসব পণ্যের স্থান দখল করে নিয়েছে। ফলে প্লাস্টিকের এসব জিনিসপত্রের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পেরে যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই কুটির শিল্পটি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন