প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জে এক আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় দ্রুত বিচার মামলায় আসামিদের জামিন দেওয়ার ফলে বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৫ম তলায় দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মো. নুরুল হকের আদালতে মামলার জামিন শুনানির সময় এই আরেকটি ঘটনা ঘটে। তবে পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায় এবং আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহ আলম তুলিপ নামে এক আইনজীবীর করা দ্রুত বিচার মামলার আসামির জামিন শুনানির সময় আদালতের বিচারক মো. নুরুল হক আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। এই সময়ে আইনজীবীরা জামিনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে আদালতের ভেতরেই বিচারকের সামনেই হট্টগোল শুরু হয়ে যায় এবং আইনজীবীরা আদালত থেকে বেরিয়ে যান।
এছাড়া জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য শাহ আলম তুলিপের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ট্যাংরাটিলা এলাকায়। মাসখানেক আগে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এলাকার প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন তিনি। এই ঘটনায় তিনি দ্রুত বিচার আদালতে হামলাকারী আতাবুর রহমান ফারাজি, সাজিদুর রহমান ফারাজি ও সাব্বির আহমেদকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
বৃহস্পতিবার আসামির জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। এই সময়ে অনেক আইনজীবী আসামিদের জামিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং আদালতের ভেতর হট্টগোল শুরু হয়। হট্টগোলের এক পর্যায়ে বিচারক আদালত থেকে খাসকামরায় চলে যান। পরে দুপুর ২টার দিকে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
মামলার বাদী আইনজীবী শাহ আলম তুলিপ বলেন, দ্রুত বিচার আইনের মামলায় এর আগে এই আদালতে কোনো আসামির জামিন হয়নি। একজন আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় করা মামলা এবং জামিন অযোগ্য ধারায় জামিন দেওয়ার কারণে আমাদের সহকর্মী সবাই কথা বলেছেন। শতাধিক আইনজীবী একসাথে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাই ঘটনা হট্টগোলের মতো শোনায়। এর বেশি কিছু নয়, আমরা কোর্ট বর্জন করিনি। অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিকভাবে আদালত ত্যাগ করেছি।
এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এডিশনাল পিপি অ্যাড. শেরেনুর আলী বলেন, আমাদের এক আইনজীবীর করা মামলায় আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে, আমরা জামিনের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এরপর আদালত নেমে যায়। এই বিষয়ে আগামী রবিবার একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল হক জানান, বিচারকের সঙ্গে মারমুখী আচরণের কিছু ছিল না। আসামির জামিন দেওয়ার ফলে সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল। পরে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের একজন সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় দ্রুত বিচার মামলায় আসামির জামিন দেওয়ার সময় আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু ঘটেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন