প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহ একসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জন্য একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সাংগঠনিক ভিত্তি সময়ের সাথে সাথে অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
নেতৃত্বের বিভাজন, আওয়ামী লীগের প্রতি জেলা নেতাদের দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে দলের সেই প্রভাব সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির প্রার্থীরা পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক হতাশার অন্ধকার কাটিয়ে ঝিনাইদহ বিএনপি এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও সদ্য ঘোষিত ডাকসুর সাবেক জিএস মোঃ রাশেদ খান কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে পরাজিত হলেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম মুখ রাশেদ খানের জাতীয় রাজনীতিতে নাটকীয় উত্থান এবং গণমাধ্যমে তার যুক্তিনির্ভর বক্তব্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সম্প্রতি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ এবং সরকারের সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়ার ফলে রাশেদের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটের মাঠে পরাজিত হলেও জাতীয় পর্যায়ে রাশেদ খানের এই প্রভাবশালী অবস্থানকে দলের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ‘মরা গাঙে জোয়ার’ হিসেবে দেখছেন।
দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা এবং নানা ভাবে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন রাশেদ। তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রশাসনিকভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে প্রশংসিত হচ্ছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও রাশেদ খানের দ্রুত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। বাকপটু বাগ্মিতা এবং কৌশলী পদক্ষেপের মাধ্যমে তরুণদের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন, এবং প্রবীণ নেতারাও তাঁকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন।
রাশেদ খানের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা অত্যন্ত আশাবাদী। উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলা বিএনপির নেতারা যেভাবে রাশেদ খানকে সমর্থন করছেন, তাতে বিএনপি পরাজয়ের গ্লানি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ত্যাগী ও মার্জিত চরিত্রের প্রার্থী মনোনীত করতে পারলে তৃণমূল বিএনপির পুরানো সুদিন ফিরে আসতে পারে।
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান মন্তব্য করেন, "রাশেদ খান ঝিনাইদহের সন্তান এবং আমাদের গর্ব। তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপির পুরোনো শক্ত ঘাঁটিকে আবারও সংগঠিত করতে প্রতি সপ্তাহে ঝিনাইদহে আসছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী রাশেদ খানকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা তিনি যথাযথভাবে পালন করছেন।"
মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, "রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হওয়ায় তৃণমূল বিএনপির জন্য সুখবর বয়ে এনেছে। তিনি অনেক মানুষকে প্রশাসনিকভাবে সাহায্য করতে পারছেন। তার দ্বারা মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী রাশেদ খানকে সঠিক জায়গায় স্থান দিয়েছেন।"
বিএনপি ঘরানার রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং জিয়া পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক বলেন, "তিনটি আসনে পরাজয়ের তিক্ত দাগ ঝিনাইদহ বিএনপির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা ছিল। কিন্তু সেই ক্ষতের ওপর দাঁড়িয়ে আজ নতুন দিনের স্বপ্ন আঁকছেন তৃণমূলের কর্মীরা। আইনমন্ত্রী আসাদুুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের হাত ধরে ঝিনাইদহের উন্নয়ন তরান্বিত হবে, বিশেষ করে রেল লাইন, মেডিকেল কলেজ এবং প্রয়াত এমপি মসিউর রহমানের করা স্থাপনাগুলো যাতে ভালোভাবে চলে, সেটাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন