প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্ষার পানি ও আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন অঞ্চলে সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। গত এক মাসে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন শ্রীমঙ্গলে ২৭টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে।
ফাউন্ডেশনের সূত্রে জানা যায়, ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাপসহ এসব বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীগুলো পরে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গোখরা, ফণিমনসা, দাঁড়াশ, পাইন্না, আইড ক্যাট স্নেক ও অজগর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বনবিড়ালের বাচ্চা, গন্ধগোকুল, মুখপোড়া হনুমান ও শালিকসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অজগরগুলোর মধ্যে ১৪ ও ১৬ ফুট লম্বা দুটি অজগরও রয়েছে। হাইল হাওর থেকে জালে আটকা পড়া একটি অজগর এবং কমলগঞ্জের পানিশালা এলাকা থেকে একসাথে পাঁচটি মনোক্লেড সাপের বাচ্চাও উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে সাপের গর্তসহ মাটির নিচের বিভিন্ন আশ্রয়স্থল পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে নিরাপদ ও শুকনো আশ্রয়ের সন্ধানে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উঁচু জায়গা, বসতবাড়ির আঙিনা কিংবা ঘরের আশপাশে চলে আসে। বৃষ্টির কারণে তাদের স্বাভাবিক খাদ্য ও শিকারের চলাচলেও পরিবর্তন ঘটে। এ কারণে এ সময়ে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
এছাড়া বন, ঝোপঝাড় ও প্রাকৃতিক আবাসস্থলের পরিবর্তন এবং মানুষের বসতি সম্প্রসারণের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও মানুষের বসতির দূরত্ব কমে আসা লোকালয়ে বন্যপ্রাণী আসার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, "লোকালয়ে সাপ বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা করা উচিত নয়। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত ফাউন্ডেশন বা বন্যপ্রাণী বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খবর দিলে প্রাণীটি নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন, "বন্যপ্রাণী প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা ও দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম জরুরি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন