প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা থেকে জেলা শহরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক কাপ্তাই সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা কার্যকর না থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে চালকেরা নিজেদের মতো করে ভাড়া আদায় করছেন।
গ্যাসের সংকট ও দাম বাড়ার অজুহাতে কিছু কিছু স্থানে যাত্রী ওঠানামার ভাড়া ২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান পর্যন্ত যাত্রী চলাচলও বেশি। তাই সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টে সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী পরিবহণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠানামার সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত বেশিদিন কার্যকর থাকে না। কিছুদিন পর চালকরা ১০ টাকা করে নেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে গ্যাসের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে কোথাও কোথাও ওই ভাড়া ২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়মিত যাতায়াতকারী কয়েকজন যাত্রী বলেন, একই সড়কে একেক জায়গায় একেক ধরনের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া দিতে আপত্তি জানালে কোনো কোনো চালকের সঙ্গে যাত্রীদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। কখনো কখনো দুর্ব্যবহারেরও শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাহাবুব হোসেন নামে একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, প্রতিদিন একই পথে যাতায়াত করতে হয়; কিন্তু ভাড়া কত হবে, সেই বিষয় নিশ্চিত হওয়া দুষ্কর। অল্প দূরত্বের জন্যও বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। ভাড়া নিয়ে কথা বলতে গেলে অনেক সময় চালকের সঙ্গে তর্কে জড়াতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন পয়েন্টে যেমন চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান, মরিয়মনগর, রোয়াজার হাট, গোডাউন, গোচরা, শান্তির হাট ও পাহাড়তলী ইত্যাদিতে ভাড়া নিয়ে আলাদা আলাদা নিয়ম চালু রয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের নির্ধারিত একটি ভাড়া তালিকা না থাকায় এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন কিছু চালক ও পরিবহণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতেও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিএনজি ভাড়া নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছিল। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সিএনজি মালিক-চালক কমিটি এবং স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের সম্মতি দেওয়া হয়েছিল; তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সিএনজি চালকদের দাবি, যদি শুধু যাত্রীদের দিকটি বিবেচনা করা হয় তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। গ্যাসের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি, গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং মেরামত খরচ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত খরচের কারণে তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। ফলে পুরোনো ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে দৈনিক আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এছাড়া একজন সিএনজিচালক বলেন, গ্যাসের জন্য অনেক সময় অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এতে গাড়ি চালানোর সময় কমে যায় এবং আয়ও কমে যায়। আবার গ্যাস, যন্ত্রাংশ এবং মেরামতের খরচ বেড়েছে। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ভাড়া নেওয়াও ঠিক নয়। প্রশাসন চালক এবং যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি ভাড়া নির্ধারণ করলে তারা তা মেনে চলবেন।
ভাড়া নিয়ে চলমান বিরোধ নিরসনে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী এবং স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের মতে, যাত্রী ও চালক উভয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা দরকার। পাশাপাশি প্রতিটি স্টেশনে সেই ভাড়ার তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তারা আরও জানিয়েছেন, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেলে নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে যাত্রী হয়রানি কমবে, এবং চালকদের সঙ্গেও অযথা বিরোধ এড়ানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেছেন, সিএনজি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। চালকেরা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবেন না। যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্যাস ও যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় বিবেচনা করা হবে। কেউ ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ করতে পারবেন না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার পাওয়ার অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, কাপ্তাই সড়কে সিএনজির ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের এই অনিয়ম বন্ধ করতে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক ভাড়া তালিকা প্রণয়ন করে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ভাড়া আদায়ের অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন