প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন যে, বিগত সরকারের সময়ে তিস্তা নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে দেশের স্বার্থবিরোধী অনেক কাজ হয়েছে। তিস্তা নিয়েও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ‘নদী আমাদের একটি অর্থনৈতিক রূপান্তরের উপাদান এবং অন্যদিকে এটি জীবনযাত্রার ভিত্তিও। কিন্তু এই নদী যখন সীমান্ত পার হয়ে আমার দেশে প্রবাহিত হচ্ছে, তখন এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত আমরা বারবার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছি এবং নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘নদীর গতি-প্রকৃতি কখন কোথায় যাবে, কিভাবে যাবে এবং কোথায় থামবে, তা বোঝা খুব মুশকিল। এটাকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজন রয়েছে।
এক্ষেত্রে যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে, সেটাও আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে। আমাদের একটি ইন্টিগ্রেটেড ওয়েতে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের দরকার একটি সমন্বিত সমাধান।’
পানিসম্পদ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘উত্তরবঙ্গের নদীভাঙা মানুষদের জন্য যে কমিটমেন্ট আছে, সেই কমিটমেন্টকে আমরা বাস্তবায়িত করতে চাই। আমরা আশা করছি, খুব শীঘ্রই আপনাদের আন্তরিকতা এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতির জন্য আমরা এই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারব।’
পার্শ্ববর্তী দেশের বন্ধুত্ব সম্পর্কে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘পার্শ্ববর্তী বন্ধু দেশগুলোকে চিন্তা করতে হবে যে তাদেরও স্বার্থ রয়েছে এবং আমাদেরও স্বার্থ আছে। একই সঙ্গে বন্ধু দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। আমাদের স্বার্থের প্রতি তাদের নজর দেওয়ার প্রয়োজন। আমরা কখনোই চাই না, বন্ধু দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এমনটাই বলেছেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া যখন এ দেশের দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিস্তা প্রকল্পের ক্ষেত্রে তার একটি দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও আন্তরিক ছিলেন। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আমরা ১৭ বছর অনেকভাবে পিছিয়ে গিয়েছি এবং অনেক নির্যাতিত হয়েছি। স্বার্থবিরোধী অনেক কাজও হয়েছে।’
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থে তিস্তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যা যা প্রয়োজন, আমরা তা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাব। তিস্তাপাড়ের মানুষ হিসেবে আমি আপনাদের সঙ্গে বলব, দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী।’
টেকনিক্যাল সাপোর্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে চায়না গিয়েছি। নেদারল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং অন্য কোনো দেশেও যদি টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসে, আমরা সেটাকে সাদরে গ্রহণ করব।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন