প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী এবং পাল্টাপাল্টি হামলা কেবলমাত্র সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং একে অপরের 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমানা পরীক্ষা করার কৌশল। একের পর এক রকেট ও বিমান হামলার মাঝেও, পর্দার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে গোপন কূটনৈতিক কার্যক্রম চালুচ্ছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির গভর্নমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের গভীর বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর মতামতের ভিত্তিতে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ভেতরের সমীকরণ নিচে তুলে ধরা হলো।
অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেন, “যখন দুটি পক্ষ এই ধরনের বড় সংঘাত বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তখন তারা কেবল অস্ত্র দিয়েই নয়, বরং বহু উপায়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখে। কখনও কখনও তারা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে কিংবা 'ব্যাক চ্যানেল' (গোপন পথ) ব্যবহার করে বার্তা আদান-প্রদান করে। আবার কখনও সেই বার্তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রেই দেওয়া হয়।”
বর্তমানে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের শক্তি এবং সহ্যক্ষমতার শেষ সীমা (রেড লাইন) কোথায়, তা বোঝার চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তবে মাসগ্রেভের মতে, এই নিয়ন্ত্রণের প্রকৃত অর্থ এখনও অস্পষ্ট। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ইরান কি এই রুট দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক শুল্ক বা টোল আরোপ করতে চায়? নাকি ওমান তাদের নিজস্ব জলসীমায় যে অধিকার ভোগ করে, ইরান সেই একই অধিকার নিজেদের জন্য দাবি করছে?”
এই সংঘাতে শুরুর তুলনায় বর্তমানে দুই দেশের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যে এক নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাসগ্রেভ বিশ্লেষণ করে জানান, যুদ্ধ যতটা দীর্ঘ হচ্ছে, ইরানের উদ্দেশ্য এবং আকাঙ্ক্ষা ততই বড় হচ্ছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য 'আশ্চর্যজনকভাবে' ছোট হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখন আর ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের (Regime Change) মতো বড় বড় কথা বলছে না। কিন্তু বিপরীতে, তেহরানের নীতিনির্ধারকরা এখন আরব সাগরে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বা 'হেজেমনি' প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।”
ইরানের এই ক্রমবর্ধমান আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে এই সংকটের কোনো সহজ সমাধান দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। মাসগ্রেভের মতে, দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে চলমান যুদ্ধাবস্থা থেকে বের হয়ে পুনরায় আলোচনা বা আনুষ্ঠানিক কূটনীতিতে ফেরা এখন অত্যন্ত কঠিন ও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন