প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি মাসের জুলাই মাসের ৪ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত, বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান।
এই উপলক্ষে অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বব্যাপী অন্তত ১০০টি দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধিদল।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এই অনুষ্ঠানকে ইরানি জাতি, অঞ্চলটির জনগণ এবং বিশ্বের মুসলমানদের জন্য ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাঘায়ি জানান, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধিদল অংশ নেবেন।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা ও বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। এ অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করবেন।
অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে।
বাঘায়ি আরও জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
এর আগে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামী দিকনির্দেশনাবিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি জানিয়েছেন, জানাজা উপলক্ষে ইতিমধ্যে গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০০ সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানগুলো কাভার করবেন।
যাতে এই ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা যায়।
রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যানুষ্ঠান হতে যাচ্ছে, যেখানে দেড় থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
সালেহি বলেন, খামেনির জানাজা শুধু একজন নেতাকে জাতির শেষ শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি জাতীয় শক্তি, সামাজিক সংহতি এবং শত্রুদের মোকাবেলায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরোধক্ষমতারও একটি প্রকাশ।
সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এরপর ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোম, ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে শোকানুষ্ঠান এবং ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
এদিকে, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন