প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ১৬ বছর পর, চিলি দেশটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চিলি-ফিলিস্তিন বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস’ উদ্যাপন করতে যাচ্ছে। নতুন আইন অনুসারে, ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি দিবসটি উদ্যাপন করা হবে।
গত ২২ অক্টোবর চিলির সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ২১ হাজার ৮৪৩ নম্বর আইনে প্রতি বছর ৭ জানুয়ারিকে চিলি ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ‘বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দিবস পালনের মাধ্যমে দুই জনগণের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি, ফিলিস্তিনি জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষায় চিলির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার সুরক্ষাব্যবস্থার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটিতে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
আইনটিতে দুটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদে প্রতি বছর ৭ জানুয়ারিকে চিলি ও ফিলিস্তিনের বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে দুই জনগণের সম্পর্ক উদ্যাপনের জন্য স্মারক ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি আয়োজনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক নীতিমালা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি চিলির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম উত্থাপিত হয় আইনটির প্রস্তাব। পরবর্তী সময়ে এটি সিনেটে পাঠানো হলে সেখানে কয়েক দফা সংশোধনী আনা হয়। সিনেটে অনুমোদনের পর, চূড়ান্ত ভোটাভুটির জন্য প্রস্তাবটি আবারো চেম্বার অব ডেপুটিজে পাঠানো হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পায় প্রস্তাবটি। এর ফলে আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথ সুগম হয়।
সংসদীয় আলোচনায় আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সিনেটর ভ্লাদো মিরোসেভিচ বলেছেন, ‘আমি এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছি, কারণ এটি এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলে, যা চিলির কাছে অপরিচিত নয়; বরং এটি আমাদের নিজেদের ও আমাদের ইতিহাসের কথা বলে।’
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং তাদের বংশধরেরা চিলির শিল্প, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের মাতৃভূমি ফিলিস্তিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও বজায় রেখেছেন।
সিনেটর সের্হিও গাহোনাও আইনটিকে নিছক প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই উদ্যোগের ওপর ভোট দেওয়া মানে শুধু ক্যালেন্ডারে একটি দিন নির্ধারণ করা নয়; বরং এমন একটি জনগণের গভীরভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, যারা আমাদের দেশের আত্মার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
গাহোনার মতে, বেথলেহেম, বেইত জালা ও বেইত সাহুর থেকে আসা পরিবারগুলো চিলির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন এই আইন সেই অবদান এবং চিলির সমাজে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত জনগণের গভীর শিকড়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
আরএ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন