প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পাওয়ার জন্য কঠিন চারটি শর্ত মানতে হবে। ২০৩১ সালের মধ্যে কর অব্যাহতি তুলে নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্যাটের অভিন্ন হার কার্যকর করতে হবে। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করার জন্য কীভাবে পরিকল্পনা করা হবে, সে বিষয়েও আইএমএফকে একটি পরিকল্পনা দিতে হবে।
এছাড়া, এনবিআরের নীতি এবং বাস্তবায়নকে আলাদা করার শর্তও সংস্থাটি যুক্ত করেছে। সম্প্রতি এনবিআরের চেয়ারম্যান তিনটি অনুবিভাগ, আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র জানায়, আইএমএফের প্রথম ঋণের কিছু শর্ত ছিল, তবে সেগুলো এনবিআর ঢিলেঢালাভাবে পালন করেছিল। কিন্তু এবারে আইএমএফের ঋণে কঠোর শর্ত মানতে হচ্ছে এনবিআরকে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় উঠে এসেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কর অব্যাহতির পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মূলত সরকার দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং অর্থনীতির গতি বাড়ানোর জন্য এ ধরনের কর অব্যাহতি প্রদান করে। এই প্রেক্ষাপটে, আইএমএফ ২০৩১ সালের মধ্যে সব ধরনের কর অব্যাহতি তুলে নেওয়ার শর্ত দিয়েছে।
এছাড়া, সংস্থাটির আরেকটি শর্ত হচ্ছে ভ্যাটের অভিন্ন হার কার্যকর করতে হবে। বর্তমানে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন স্ল্যাব রয়েছে। শিল্পের সুবিধা ও জনস্বার্থে সরকার এ সুবিধা প্রদান করে আসছে। আইএমএফের ঋণ পাওয়ার জন্য ভ্যাটের একটি অভিন্ন হার কার্যকর করতে হবে। যদি ১৫ শতাংশ হয়, তাহলে সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ প্রযোজ্য হবে, আর ১০ শতাংশ বা সাড়ে ৭ শতাংশ হলে সব ক্ষেত্রেই একই ভ্যাট হার কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, "আইএমএফের বড় কনসার্ন হচ্ছে কর অব্যাহতি তুলে দিতে হবে। ভ্যাটের একটা স্ট্যান্ডার্ড রেট নির্ধারণ করতে হবে।" এছাড়া, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করার জন্য এনবিআরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে আইএমএফ। আরেকটি বড় কনসার্ন হচ্ছে এনবিআরকে বিভক্ত করা। যদিও সরকার ইতোমধ্যে এনবিআরকে ভাগ করে অধ্যাদেশ জারি করেছে, তবে আইএমএফ বিষয়টির বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
সূত্র আরও জানায়, এনবিআরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে করের আওতা বৃদ্ধি করার বিষয়টিতে জোর দিয়েছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। নতুন ঋণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। আইএমএফ বিষয়টির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। এছাড়া, এনবিআর পৃথকীকরণের শর্তও রয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরকে দুই ভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করেছে। আগামী সংসদ অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত বিল উঠছে। এনবিআরকে দুটি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করে রাজস্ব নীতি ও বাস্তবায়ন আলাদা দুটি বিভাগ গঠন করা হচ্ছে। রাজস্ব নীতি বিভাগ পলিসি তৈরি করবে এবং বর্তমান এনবিআর বাস্তবায়ন বিভাগ হিসেবে কাজ করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্বনীতি বিভাগে ১৬ সদস্যের একটি কাউন্সিল থাকবে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাজস্ব-সংক্রান্ত পলিসি কী হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। এ কাউন্সিলে ব্যবসায়ী, আমলা, অর্থনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও থাকতে পারেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন