প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মিছিলের ডাক দিয়েছে। রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পাকিস্তান সরকার কার্যত লকডাউন করে ফেলেছে, যাতে সমর্থকদের মিছিল ঠেকানো যায়।
দেশের প্রধান সড়কগুলোতে শিপিং কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে এবং হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পিটিআই জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে, সরকার বলেছে, রাজধানীর সড়ক বন্ধ করে জনজীবন ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ নিয়ে সরকার এবং ইমরান খানের দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
মিছিলের আগে ইমরান খানের তিন বোন, আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজি আটক হয়েছেন। পাশাপাশি পিটিআইয়ের বেশ কয়েকজন কর্মী ও নেতাকেও আটক করা হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।
এই বিক্ষোভ পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ইমরান খানের কারাবাস এবং তার দলকে বিভিন্নভাবে চাপে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে।
যদি বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয় বা রাজধানীতে যাওয়ার পথে সংঘর্ষ হয়, তাহলে ব্যবসা ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। এতে সরকারের ওপর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবেলার চাপ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, পাকিস্তানের ৭০০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির পর্যালোচনা করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি দল বর্তমানে দেশটিতে রয়েছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের পর এই কর্মসূচি পাকিস্তানের অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে সহায়তা করছে।
এই সপ্তাহে আইএমএফের প্রতিনিধিদল করাচিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পরিকল্পিত বিক্ষোভের পরদিন সোমবার তাদের ইসলামাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে।
‘দ্য নিউজ’-এর প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, রাজধানীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইএমএফের প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফরের পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার শিপিং কনটেইনার অস্থায়ী ব্যারিকেড হিসেবে বসানো হয়েছে। রবিবারের পরিকল্পিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ২২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা ব্যারিকেড বসানোর নির্দিষ্ট কারণ জানাননি।
ইমরান খানের সঙ্গে শিপিং কনটেইনারের এমন ঘটনার আগেও সম্পর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে একটি বিক্ষোভ মিছিলে সমর্থকদের উদ্দেশে কথা বলার সময় তিনি একটি কনটেইনারের ওপর দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় এক বন্দুকধারীর গুলিতে তিনি পায়ে আহত হন।
দুর্নীতির একটি মামলায় ইমরান খান ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, কারাগারে তাকে অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, খান দিনে প্রায় ২৩ ঘণ্টা একটি ছোট কক্ষে থাকেন, যেখানে প্রাকৃতিক আলো নেই এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গেও তার যোগাযোগের সুযোগ নেই। তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রবিবারের বিক্ষোভ সামনে রেখে সরকারের মন্ত্রীরা মিছিল ঠেকানোর কথা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের কারণে দেশ অচল হয়ে পড়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
এরই মধ্যে ইসলামাবাদে প্রবেশের প্রধান মহাসড়ক ও অন্যান্য সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ইমরান খানের দল পিটিআই-শাসিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়ার সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও রয়েছে।
পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ ইসলামাবাদজুড়ে দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে, যার আওতায় পাঁচ বা ততোধিক লোকের সমাবেশ এবং জনসমাগমস্থলে র্যালি ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঞ্জাব নিরাপত্তা জোরদার করতে রাওয়ালপিন্ডিসহ চারটি জেলায় আধাসামরিক রেঞ্জার্স মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছে। মিছিলের আগে প্রদেশটি মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখারও দাবি জানিয়েছে।
পিটিআই সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগ করেছে। পিটিআই চেয়ারম্যান গোহর আলী খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যখন ইসলামাবাদে প্রবেশ করব, তখন সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকাসহ একটি উৎসবমুখর পরিবেশ থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন