প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমি জোরপূর্বক দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠে জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারি কাদেরীর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর।
এই অভিযোগের পর আজকের পত্রিকা অনলাইনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে উঠে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ বন্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
পরে আজ ৪ নভেম্বর, বুধবার হাসপাতালের জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা চেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান।
চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ভৈরব কুলিয়ারচর আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম সহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিতে মার্কেট নির্মাণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারি কাদেরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হাসপাতালের জায়গা রক্ষার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় প্রতিবাদ।
সিভিল সার্জনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণাধীন ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি স্বাধীনতার আগে থেকে অদ্যাবধি সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী এখান থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা পান। প্রতিষ্ঠানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত রয়েছেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভৈরবের প্রাণকেন্দ্র বাজার এলাকায় প্রায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত পৌরসভার ইপিআই টিকাদান কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এখানে আধুনিক ২০ শয্যার একটি ডায়াবেটিস হাসপাতাল স্থাপনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের জনবলের জন্য কোয়ার্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
চিঠিতে সিভিল সার্জন অভিযোগ করেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে অচল দেখিয়ে জমিটি জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি রেজুলেশন পাস করা হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর একদল লোক হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভাঙা ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের সদস্যরা তা প্রতিহত করেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, হাসপাতালটি সচল থাকা অবস্থায় এর স্থাপনা বিলীন করার উদ্যোগ স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাধারণ মানুষকে মর্মাহত করেছে। জমিটি এখনো বিএস রেকর্ডে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামে রয়েছে এবং নিয়মিত সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে সরকারের স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্র আরও উন্নত ও সম্প্রসারণে সহযোগিতা করার জন্য জেলা পরিষদ প্রশাসককে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর জেলা পরিষদের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এ সময় হাসপাতালের পেছনের পুরোনো ভবন ভাঙার চেষ্টা এবং সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে প্রায় ১০ হাজার নতুন ইট রাখা অবস্থায় দেখতে পান সাংবাদিকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে মার্কেট নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি দোকানের এক শাটার ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রির কথাও শোনা যায় লোকমুখে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব বাজার মৌজার খতিয়ান নং-৩৩, দাগ নং-৭৫০২ দাগে প্রায় ৩৮.২৮ শতাংশ জমি বিএস খতিয়ানে স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ড রয়েছে। অন্যদিকে সিএস খতিয়ানে জেলা পরিষদের নামে রেকর্ড। স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করছে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারি কাদেরী জানিয়েছিলো, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সচল থাকবে, তবে বাকি জায়গায় জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণ করবে। এখনো কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি। কাজের জন্য ইট আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনোভাবেই সচল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে না। বরং হাসপাতালটি আধুনিকায়ন ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে অচল দেখিয়ে জমিটি জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি রেজুলেশন পাস করা হয়েছিলো। গতকাল ৩ নভেম্বর জেলা পরিষদের লোকজন হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভাঙা ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় মানুষ ও সুশীল সমাজের লোকজন তা প্রতিহত করে। বিষয়টি জানার পর আজ বুধবার, নির্মাণ কাজ বন্ধসহ স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা চেয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন