প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের পর ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাত পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কী
গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চুক্তির মূল বিষয় হলো, যদি জোটভুক্ত কোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হয়, তাহলে সেটি তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে এবং আক্রান্ত দেশকে অন্য দুই দেশ সহযোগিতা করবে।
চুক্তিতে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ অঞ্চল ও এর বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে, কোনো দেশ আক্রান্ত হলে নির্দিষ্টসংখ্যক সেনা, যুদ্ধবিমান বা অস্ত্র পাঠানোর বাধ্যবাধকতা চুক্তিতে নেই। হামলার জবাবে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়টি নির্দিষ্ট করা হয়নি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা ধারাকে ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদের সঙ্গে ‘কার্যত একই’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশের প্রতিক্রিয়া দেখা না পর্যন্ত এটিকে ন্যাটোর মতো বাধ্যতামূলক সামরিক অঙ্গীকার বলা ঠিক হবে না। বরং এটি ‘অভিপ্রায়ের ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
কেন এত আলোচনা
মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান এবং ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থলের তুরস্ক এই তিন দেশের অবস্থান ও সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক। সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও তেলসম্পদ, পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা।
ইরানকে ঘিরে সংঘাত, ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং হুথিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের কারণে সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে ইসরায়েলকে বিবেচনা করা হয়। ফলে, দুই দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা যুক্ত হওয়াকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ১৯ মার্চ রিয়াদে ইসলামি সম্মেলনের সময় তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এর ধারাবাহিকতায় মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
এ চুক্তি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান মন্তব্য করেছেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা নয়; ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোকে এর আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। ধর্মীয় দিক থেকেও চুক্তিটির প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। মুসলিম বিশ্বের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরতে শুক্রবার এবং মক্কাকে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন