প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢল এবং টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির কারণে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলস্বরূপ, বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
নদীর পানি কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ার জন্য, হাজারো কৃষকের সবজি ক্ষেত পানির তলায় চলে গেছে। এতে লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, ডাঁটা শাক, চালকুমড়া, পুঁইশাকসহ একাধিক মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সহস্রাধিক কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পরেছেন।
বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এবং আদর্শ সদর উপজেলার কাচিয়াতলী ও আমতলী এলাকার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগে যেখানে সবুজ ভরে ছিল সবজির ক্ষেত, সেখানে বর্তমানে কেবল পানি আর পানি। কোথাও গাছের ডগা পানির ওপর দৃশ্যমান দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও ভেসে বেড়াচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া শাকসবজি। অনেক কৃষক কোমরসমান পানিতে নেমে পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগেই যতটুকু সম্ভব ফসল তুলে আনতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।
কৃষকরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের কাছে ফসল রক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না। অধিকাংশ সবজি এখনও বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে ওঠেনি। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব অবস্থায় ফসল তুলে স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন খরচও উঠছে না।
বালিখাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল হক জানান, তিনি আগাম জাতের মুলা ও লাউ চাষে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু গোমতীর পানি বাড়ানোর কারণে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আরও দুই দিন যদি পানি থাকে তবে কাদা চাপায় চারাগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।
কাচিয়াতলী এলাকার কৃষক আবদুল জলিল বলেন, তার ডাঁটা শাক, পুঁইশাক ও চালকুমড়ার ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তার মতো ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও আশপাশের অন্তত শতাধিক কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক বাহার মিয়া জানাচ্ছেন, ‘লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, ডাঁটা শাক ও চালকুমড়াসহ নানান সবজি কাঁচা অবস্থাতেই তুলে নিতে হচ্ছে। পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগে যতটুকু পারছি বিক্রি করছি। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, গোমতী নদীর পানি এখনও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তবে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে আমনের বীজতলা ও অন্যান্য কৃষি ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ‘উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এবং কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার জানান, ‘গোমতী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বাড়ছে এবং কয়েকটি নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গৃহীত হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন