প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তরুণ মো. সাগর (২৪) পরিবারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি বেকারিতে কাজ করতেন এবং মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা উপার্জন করতেন। কিন্তু বেশি উপার্জনের আশায় এক বাংলাদেশি দালালের প্রলোভনে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি প্রাণ হারান। মৃত্যুর চার-পাঁচ মাস পর সাগরের এক সহযোদ্ধার ফোনে পরিবার জানতে পারে, “সাগর আর নেই।” এইভাবে সাগরের মৃত্যুর খবরটি তাদের কাছে পৌঁছায়। এখন তারা সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
নিহত সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে একসময় তিনি বাবার সবজি ব্যবসায় সাহায্য করতেন এবং কখনো রিকশাভ্যান চালাতেন। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে সাগর রাশিয়ায় যান। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করার সময় তিনি এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচিত হন। ওই দালাল তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখান। পরিবারের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হলেও, চলতি বছরের মে মাসে যুদ্ধে অংশ নিতে সাগর যান।
এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলের কোনো খবর না পাওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন স্বজনরা। অবশেষে গত শনিবার এক সহযোদ্ধার ফোনে সাগরের মৃত্যুর খবর পান তারা। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পরিবারের কাছে নেই।
সাগরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অসুস্থ বাবা-মা ছেলের মৃত্যুর সংবাদে ভেঙে পড়েছেন। ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তারা। তাদের আশা ছিল, ছেলে উপার্জন করে পরিবারের অভাব দূর করবেন এবং সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন গভীর শোকে পরিণত হয়েছে।
নিহত সাগরের বাবা কবির হোসেন ও মা দেলোয়ারা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবরে দিশেহারা। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে সাগরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে।
কীভাবে সাগর রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন, কোন বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে যুদ্ধে গেলেন এবং তার মৃত্যুর বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা বলে জানিয়েছেন সাগরের বাবা কবির হোসেন। একই সঙ্গে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি।
সাগরের চাচা আবদুল আওয়াল বলেন, “সাগর যখন রাশিয়ার বেকারিতে চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করার কথা আমাকে জানায়, তখন আমি তাকে বারণ করেছিলাম। কারণ, সাগর লেখাপড়াই জানে না, সে বিদেশে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে কীভাবে? ওই দেশে অবস্থান করা এক বাংলাদেশি দালাল তাকে ভুল তথ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছে।”
এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন