প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, একই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দেওয়া, হেনস্তা এবং হুমকি দেওয়ার। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মান্দা থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়া ওই নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব করে আসছিলেন। বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে তিনি আবারো একই ধরনের আচরণ শুরু করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ, গত ১০ জুন নবম শ্রেণির ক্লাসে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনে তার পথরোধ করে তাকে হেনস্তা করা হয়। ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার জেরে গত বুধবার (১৭ জুন) বিদ্যালয়ের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে জুতাপেটা করার চেষ্টা করেন। অন্য শিক্ষকদের হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর তিনি মান্দা থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযোগের পর থেকে তাকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী সমবেত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এই সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে সটকে পড়েন বলেও জানা যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সাড়া না দেওয়ায় ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।’
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন